বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের উন্নতির গল্পটা এবার আরও বড় এক অর্জনে রূপ নিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ১৯৮ রানে অলআউট করেছে বাংলাদেশ। আর অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেটই ভাগ করে নিয়েছেন তিন পেসার—হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন।
টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিপক্ষের এক ইনিংসের সবকটি উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখাল বাংলাদেশের পেসাররা। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই নজির গড়েছিলেন টাইগার পেসাররা। এবার অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সেই কীর্তির পুনরাবৃত্তি করলেন হাসান-তাসকিন-এবাদতরা।
ডারউইনের মারারা ওভালে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। প্রথম দিন বল হাতে একাই অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং অর্ডারকে সবচেয়ে বেশি নাড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। ৬ উইকেট নিয়ে ইনিংস শেষ করেছেন হাসান, খরচ করেছেন ৫৫ রান।
তাকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। তাসকিন পেয়েছেন ২ উইকেট, খরচ ৫৫ রান। আর দীর্ঘদিন পর টেস্ট একাদশে সুযোগ পাওয়া এবাদত ৩৯ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
এবাদতের একাদশে থাকা নিয়েই ম্যাচের আগে ছিল আলোচনা। সর্বশেষ চার টেস্টে সাত ইনিংসে ৭১ ওভার বোলিং করে তার শিকার ছিল মাত্র তিন উইকেট। এর মধ্যে পাঁচ ইনিংসেই কোনো উইকেট পাননি তিনি। এমন পরিসংখ্যানের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাদশে তার জায়গা পাওয়া ছিল কিছুটা চমকই।
তবে মাঠে নেমে সেই সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করেছেন এবাদত। শুরু থেকেই তাসকিন ও হাসানের চেয়ে কিছুটা জোরে বল করার চেষ্টা করেছেন তিনি। অফ স্টাম্প ও তার আশপাশে ধারাবাহিকভাবে বল ফেলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রেখেছেন।
প্রথম দিনটা বাংলাদেশের তিন পেসারেরই। নতুন বলে শুরুতে আগুন ঝরানোর পর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্পেলেও ধার ধরে রাখেন তারা। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে একের পর এক আঘাত করে ১৯৮ রানের মধ্যেই ইনিংস শেষ করে দেন।
হাসানের ৬ উইকেট শিকারের পাশাপাশি তাসকিন ও এবাদতের দুটি করে উইকেট বাংলাদেশের পেস আক্রমণের সমন্বিত সাফল্য নিশ্চিত করেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলার নাহিদ রানা চোটের কারণে না থাকলেও পেস আক্রমণের শক্তিতে কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি।
বাংলাদেশের পেসারদের টেস্ট ইতিহাসে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার ঘটনা এর আগে এসেছিল ২০২৪ সালের পাকিস্তান সফরে। রাওয়ালপিন্ডিতে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তানকে ১৭২ রানে অলআউট করার পথে সব উইকেটই নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পেসাররা।
সেই ম্যাচে হাসান মাহমুদ ৫ উইকেট, নাহিদ রানা ৪ উইকেট এবং তাসকিন আহমেদ ১ উইকেট নিয়েছিলেন। এবার নাহিদ রানা নেই, কিন্তু হাসান, তাসকিন ও এবাদত মিলে অস্ট্রেলিয়ার ১০ উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিলেন।