বিশ্বকাপের আর মাত্র একটি ম্যাচ। এরপরই শেষ হবে আরেকটি স্বপ্নযাত্রা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালে নামার আগে সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং পুরো দলকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
রোববার দিবাগত রাত ১টায় নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ম্যাচের আগের রাতে পুরো দলের সঙ্গে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন মেসি। সেই ছবির ক্যাপশনেই ফুটে ওঠে তার আবেগ, কৃতজ্ঞতা এবং দীর্ঘ পথচলার অনুভূতি।
মেসি লিখেছেন, ‘আগামীকাল যা-ই ঘটুক না কেন, এই দল ইতোমধ্যেই ইতিহাস লিখে ফেলেছে।’ তার মতে, শুধুমাত্র শিরোপা নয়, দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে লড়াই করা, প্রতিকূলতা অতিক্রম করা এবং প্রতিটি মুহূর্ত ভাগাভাগি করাই এই দলের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, ‘এত বছর ধরে শুধু শিরোপা জয়ই নয়, পুরো পথচলাটাই সবচেয়ে সুন্দর বিষয়। এই দলের সঙ্গে প্রতিদিন কাটানো, একসঙ্গে লড়াই করা, কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’
বার্তায় সতীর্থদের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক, কিটম্যান, সহায়ক কর্মী এবং জাতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান তিনি। মেসি লিখেছেন, ‘আমার প্রতিটি সতীর্থকে, কোচিং স্টাফকে এবং প্রতিদিন জাতীয় দলকে একটি পরিবারের মতো ধরে রাখতে যারা কাজ করেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এই ইতিহাস আমরা কখনও ভুলব না, আর কেউ সেটি মুছেও ফেলতে পারবে না। ভামোস আর্জেন্টিনা!’
ফাইনালের আগের রাতে প্রকাশিত দলীয় ছবিতে মেসির পাশে ছিলেন প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। এছাড়া পুরো খেলোয়াড় দল, কোচিং স্টাফ, মেডিকেল টিম, কিটম্যান, রাঁধুনি, সহায়ক কর্মী এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ক্লদিও তাপিয়াসহ প্রতিনিধি দলের সবাই উপস্থিত ছিলেন। দলের অন্য খেলোয়াড়রাও একই ছবি নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেছেন।
৩৯ বছর বয়সী মেসি যৌথভাবে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ খেলছেন। অনেকের ধারণা, এটিই হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ। তাই ফাইনালের আগে দেওয়া এই বার্তায় অনেকেই বিদায়ের আবহও খুঁজে পাচ্ছেন।