Monday 06 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্বকাপ ২০২৬ / যেসব কারণে ব্রাজিলের হৃদয়বিদারক বিদায়

স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
৬ জুলাই ২০২৬ ১৯:২৬ | আপডেট: ৬ জুলাই ২০২৬ ২২:২৫

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। হলুদ জার্সির ঝলক, সাম্বার ছন্দ আর কোটি কোটি সমর্থকের অগণিত স্বপ্ন। কিন্তু এবার সেই স্বপ্নের শেষটা হলো অশ্রু, হতাশা আর নিস্তব্ধতায়। শেষ বাঁশি বাজতেই কেউ মাথা নিচু করে বসে পড়লেন, কেউ আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেললেন, আর গ্যালারিতে থাকা হাজারো ব্রাজিলিয়ান সমর্থকের চোখ ভিজে উঠল কান্নায়। নেইমারকে দেখা গেল ডুকরে কাঁদছেন। আরেকটি বিশ্বকাপ, আরেকটি অসমাপ্ত স্বপ্ন।

নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের হারে রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে। প্রশ্ন হলো—কেন এমন হার?

ভুল একাদশ নির্বাচন, পেনাল্টি মিস, অকার্যকর মিডফিল্ড, একের পর এক সুযোগ নষ্ট আর ট্যাকটিক্যাল ভুল সিদ্ধান্ত মিলিয়েই লেখা হয়েছে ব্রাজিলের হৃদয়বিদারক বিদায়ের গল্প।

বিজ্ঞাপন

ব্রাজিল ঠিক কোন কোন ভুল করল চলুন আলোচনা করা যাক-

নেইমারকে উপেক্ষা:

ম্যাচ শুরুর আগেই বড় প্রশ্ন ছিল ইনজুরি আক্রান্ত লুকাস পাকেতার জায়গায় খেলবেন কে। সবাইকে অবাক করে ক্রিয়েটিভ মিডফিল্ডার হিসেবে নেইমারের বদলে মার্টিনেল্লিকে নামান আনচেলোত্তি। মার্টিনেল্লি প্রত্যাশা পুরণে পুরো ব্যর্থ। ৬৭ মিনিট মাঠে থেকে মাত্র ২০টি সফল পাস দিতে পেরেছেন। গোলের দুটি সুযোগ তৈরি করলেও নিজেই একটি বড় সুযোগ নষ্ট করেন। ঠিক এই জায়গায় নেইমার খেললে ম্যাচের গল্পটা ভিন্নও হতে পারত।

পেনাল্টি মিস:

ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল ব্রাজিলের পাওয়া পেনাল্টি। দলে ভিনিসিয়াস জুনিয়র কিংবা ম্যাথিয়াস কুনিয়ার মতো স্বীকৃত গোলস্কোরার থাকা সত্ত্বেও শট নিতে আসেন ব্রুনো গুইমারেস। পুরো ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি পেনাল্টি শট নেওয়া গুইমারেসের দুর্বল শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। সেই পেনাল্টি মিস না হলে ম্যাচের গল্প হতে পারত ভিন্ন রকম।

অকার্যকর মিডফিল্ড:

আধুনিক ফুটবলে ম্যাচ জিততে হলে মিডফিল্ড জিততে হয়। আর ঠিক সেখানেও পিছিয়ে পড়ে ব্রাজিল। পাকেতার অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের মিডফিল্ড ভারসাম্যপূর্ণ মনে হয়নি। অন্যদিকে নরওয়ের স্যান্ডার বার্গ, প্যাট্রিক বার্গ এবং মার্টিন ওডেগার্ড পুরো ম্যাচে মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে- ম্যাচে নরওয়ের তিন মিডফিল্ডার মিলিয়ে প্রায় আড়াইশ সফল পাস দিয়েছেন। অন্যদিকে ব্রাজিলের তিনজন মিলে ৮০টিরও কম সফল পাস।

সুযোগ মিস:

একের পর এক সুযোগ মিসও ব্রাজিলের হারের বড় কারণ। ম্যাচে মোট পাঁচটি বড় সুযোগ নষ্ট করেছে সেলেসাওরা। পেনাল্টি মিস করেছেন গুইমারেস। এন্ড্রিক ওপেন প্লেতে সবচেয়ে সহজ সুযোগটি বাইরে মেরে দেন। ভিনিসিয়াস ও মার্টিনেল্লিও গোল করার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন। অবশ্য নরওয়ের গোলরক্ষক নাইলান্ড কয়েকটি অসাধারণ সেভ করেছেন।

ভুল বদলি:

ম্যাচে বদলি সিদ্ধান্তও ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। ব্রাজিল দুই গোলই হজম করে ব্রুনো গুইমারেস মাঠ ছাড়ার পর। ৩৪ বছর বয়সী ক্যাসেমিরো পুরো ম্যাচ খেললেও ফর্মে থাকা গুইমারেসকে তুলে নেওয়ার পর ব্রাজিল মিডফিল্ডের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে। এছাড়া কুনিয়ার পরিবর্তে নামানো এন্ড্রিক সবচেয়ে সহজ সুযোগটি নষ্ট করেন। কুনিয়া মাঠে থাকলে ফলাফল ভিন্নও হতে পারত।

বলের দখল রাখতে না পারা:

বল দখলের লড়াই ভুগিয়েছে ব্রাজিলকে। এই ম্যাচে ব্রাজিল ইচ্ছে করেই বলের দখল নরওয়েকে ছেড়ে দেয়। মাত্র ৩৪ শতাংশ বল দখলে রাখতে পারে ব্রাজিল। অন্যদিকে নরওয়ের দখলে ছিল ৬৬ শতাংশ বল। বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে নরওয়ে নিজেদের ছন্দে ম্যাচ খেলেছে। জাপানের বিপক্ষে যেখানে ব্রাজিল নিজেরাই বলের দখল রেখে আধিপত্য দেখিয়েছিল, সেখানে নরওয়ের বিপক্ষে সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল তাদের জন্য আত্মঘাতী হয়েছে।

একটি ভুল হয়তো ম্যাচ হারায় না। কিন্তু একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত, মিডফিল্ডে ব্যর্থতা, পেনাল্টি মিস, সুযোগ নষ্ট এবং ট্যাকটিক্যাল দুর্বলতা—সব মিলিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে।

এখন প্রশ্ন একটাই— এই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে সেলেসাওরা?

সারাবাংলা/এসএইচএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর