২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জন্য ২ হাজার ৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় এ বরাদ্দ বেড়েছে ৭৮২ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা দেশের ক্রীড়া উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব ঘোষণা করেন। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৭৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং পরিচালন খাতে ১ হাজার ৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৩১ কোটি ২৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং পরিচালন খাতে ছিল ৯৭২ কোটি ৭৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে মন্ত্রণালয়টির মোট সংশোধিত বাজেট ছিল ১ হাজার ৮০৩ কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
নতুন অর্থবছরের বাজেটে ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়ন এবং প্রতিভাবান খেলোয়াড় তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দেশের ৬৪টি জেলায় স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ প্রকল্প। ইতোমধ্যে ১০টি জেলার জন্য স্পোর্টস ভিলেজের প্রাথমিক নকশা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে বাজেট বক্তৃতায় উল্লেখ করা হয়েছে।
খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ক্রীড়াবিদদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রাখা হবে। বর্তমানে ৩০০ জন ক্রীড়াবিদকে নিয়মিত ক্রীড়া ভাতা দেওয়া হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উপস্থিতি জোরদার করতে ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’ বা ক্রীড়া কূটনীতির ওপরও গুরুত্বারোপ করেছে সরকার। বিদেশি ক্রীড়া সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির জন্য নতুন অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হবে।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির আওতায় ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এবং মার্শাল আর্টসহ মোট আটটি খেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কর্মসূচিটি ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরীসহ মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন খেলোয়াড় এতে নিবন্ধন করেছে।
মনে করা হচ্ছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বাজেটে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেশের ক্রীড়া খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভা অন্বেষণ, আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ এবং আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরির ক্ষেত্রে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।