ঢাকা: ২০২৬ বিশ্বকাপ যেন কেবল একটি ফুটবল আসর নয়, বরং নতুন এক ইতিহাসের দরজা খুলে দেওয়ার অপেক্ষা। প্রথমবারের মতো ৩২ দলের গণ্ডি পেরিয়ে ৪৮ দলকে নিয়ে বসছে ফুটবলের এ মহামঞ্চ। তিন আয়োজক দেশ মেক্সিকো, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে ১০৪টি ম্যাচ। ৩৯ দিনের এই মহারণের উদ্বোধনী ম্যাচ হবে মেক্সিকোতে, সেমিফাইনাল কানাডায় আর ফাইনালের মঞ্চ সাজাবে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে, বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবলবিশ্বে শুরু হয়েছে উত্তাপ। এবারের আসরের ফেভারিট দল কোনগুলো, সেই প্রশ্নেই এখন সরগরম সমর্থকদের আড্ডা, বিশ্লেষকদের টেবিল আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ফুটবলপ্রেমীর মতো অনেকের মনেই হয়তো প্রথম নামটি আসে ’আর্জেন্টিনা’, আর সেই ভাবনার কেন্দ্রে থাকেন লিওনেল মেসি। কিন্তু মেসি নিজেই যেন খানিকটা সতর্ক সুরে কথা বললেন।
সম্প্রতি পোলো আলভারেজের পডকাস্ট ‘লো ডেল পোলো’-তে বিশ্বকাপের ফেভারিট নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তার মতে, এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্স, স্পেন, ব্রাজিল, জার্মানি ও পর্তুগাল এগিয়ে রয়েছে শিরোপা জেতার দৌড়ে। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকেও যে তিনি হিসাবের বাইরে রাখছেন না, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
মেসি বলেন, ‘আর্জেন্টিনা ভালো অবস্থায় আছে; যদিও অনেক খেলোয়াড়ের বর্তমানে চোটের সমস্যা ও ম্যাচ ফিটনেসের অভাব রয়েছে। তবে সত্যিটা হলো, দলটা ঐক্যবদ্ধ। এটা প্রমাণিত যে, এই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, সবসময় জিততে চায় এবং নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করে। কিন্তু আমাদের এটাও মেনে নিতে হবে যে, আমাদের চেয়ে এগিয়ে থাকা আরও দল আছে এবারের বিশ্বকাপে, যারা দল হিসেবে আরও ভালো ফর্মে আছে।’
শুধু নিজের দল নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীদের শক্তিমত্তাও অকপটে স্বীকার করেছেন ফুটবলের এই মহাতারকা। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে ফ্রান্সকে খুব শক্তিশালী দল বলে মনে হচ্ছে। তাদের দলে উঁচুমানের অনেক খেলোয়াড় রয়েছে। আমার মনে হয় স্পেন ও ব্রাজিলও এগিয়ে। যদিও ব্রাজিলকে সম্প্রতি সেরা ফর্মে দেখা যায়নি, তবে সবসময়ই তারা শিরোপার দাবিদার। সেই সঙ্গে জার্মানি ও ইংল্যান্ডও শক্তিশালী। তবে পর্তুগালেরও খুব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও ভালো দল আছে।’
এ ছাড়া বিশ্বকাপের আলোচনায় উঠে এসেছে মেসির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু নেইমারের নামও। চোট ও ফর্মহীনতার সঙ্গে লড়াই করলেও নেইমারকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখতে চান মেসি। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় চাই সেরা খেলোয়াড়েরা বিশ্বকাপে থাকুক। নেইমার এখন কোন ফর্মে আছে, সেটা বড় কথা নয়, সে সবসময় সেরাদের একজন হিসেবেই গণ্য হবে।’
এই তো, আর মাত্র কিছুদিনের অপেক্ষা। তারপরই পৃথিবীজুড়ে আবারও বেজে উঠবে বিশ্বকাপের বাঁশি—কোথাও আনন্দের ঢেউ, কোথাও স্বপ্নভঙ্গের কান্না, কোথাও নতুন কিংবদন্তির জন্ম।