Saturday 09 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিপিএল ফিক্সিং কাণ্ডে ক্রিকেটারসহ ৪ জনকে শাস্তি

সারাবাংলা ডেস্ক
৭ মে ২০২৬ ১৯:০৯ | আপডেট: ৭ মে ২০২৬ ২১:০১

বিপিএল ২০২৫। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) বিতর্কিত ‘২০২৫ আসর’ ঘিরে দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, ফিক্সিং ও জুয়া সংশ্লিষ্ট অভিযোগে ক্রিকেটারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্নীতির বিভিন্ন প্রমাণ উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বোর্ড।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান, ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ এবং টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী।

বিজ্ঞাপন

বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালার (দ্য কোড) বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে খেলোয়াড়, দলীয় কর্মকর্তা, ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। বিপিএল টি-টোয়েন্টির ১২তম আসরকে কেন্দ্র করে বিসিবির ইনটেগ্রিটি ইউনিট (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তে দুর্নীতির চেষ্টা, বেটিং বা জুয়ায় সম্পৃক্ততা, তদন্তে অসহযোগিতা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকা, দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া, বিধিমালার অনুচ্ছেদ ৪.৩ অনুযায়ী জারি করা নোটিশ পালনে ব্যর্থতা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও যোগাযোগ গোপন করা বা মুছে ফেলা এবং নির্ধারিত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার (ড্যাকো) সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ।

টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমানের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালার অনুচ্ছেদ ২.৪.৬ এবং ২.৪.৭ ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ড্যাকোর তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তথ্য-প্রমাণ গোপন করে বা মুছে ফেলে তদন্ত কাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন।

একই ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধেও। তার বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তথ্য গোপন বা ধ্বংসের মাধ্যমে তদন্ত বিলম্বিত করার অভিযোগ রয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদারের বিরুদ্ধে অনুচ্ছেদ ২.২.১ অনুযায়ী ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল, অগ্রগতি বা ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাজি ধরা বা বাজি গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধারায় টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও ম্যাচ বা খেলার পরিস্থিতি নিয়ে বাজিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিসিবি।

বিসিবি জানিয়েছে, অভিযুক্ত চারজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (প্রভিশনালি সাসপেন্ড) করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পর অভিযোগের জবাব দিতে তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করবে না বোর্ড।

এ ছাড়া, বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’র আওতায় বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে জুয়া-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি।

বিসিবি আরও জানিয়েছে, নোটিশ পাওয়ার পর সামিনুর রহমান আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার ত্যাগ করে বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর