Saturday 18 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

বগুড়ার ব্যাংক চুরি: লক্ষ্য ছিল কম ঝুঁকিতে বড় দাও

ডিস্ট্রিক্ট করসেপন্ডেন্ট
২৭ জুন ২০২৪ ১৫:১৮ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৪ ১৯:০৫

বগুড়া: ছোট খাটো চুরি করে মন ভরছিল না। তাই অনেক টাকা পাওয়ার লোভে তারা ব্যাংক চুরির পরিকল্পনা করে। ছোট ঝুঁকিতে বড় লাভ, এই লক্ষ্য নিয়েই বগুড়ার আইএফআইসি ব্যাংকের উপ-শাখায় চুরি করে সংঘবদ্ধ চোর চক্র।

মূলত ব্যাংকের উপশাখার দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোরদের চুরি করতে সাহস যোগায়। এমনই ধারণা বগুড়া জেলা পুলিশের। আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখার ভোল্ট ভেঙে চুরির সঙ্গে জড়িতদের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আলামতসহ চুরি হওয়া টাকার প্রায় ১১ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাংকের উপশাখার দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চোরদের প্রলুব্ধ করেছে বলেই পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

টানা পাঁচ দিন অভিযানের পর গ্রেফতারকৃত চারজনকে আদালতে সোপর্দ করে মঙ্গলবার তাদের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুলিশের ধারণা, বগুড়া সদরের আরেকটি ব্যাংকের উপশাখা থেকে একই কায়দায় ১০ লাখ টাকা চুরির সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের যোগসূত্র থাকতে পারে।

শহরের মাটিডালি এলাকায় আইএফআইসি ব্যাংকের উপশাখায় ১২ জুন রাতে ভোল্ট ভেঙে চুরি হয় ২৯ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বগুড়া পুলিশ এই সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার করতে মাঠে নেমে কয়েক দিনের মধ্যেই সাফল্য পায়। অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে অপরাধীরা তাদের পরিকল্পনা সাজিয়েছিল। দলনেতা জাহিদুল ইসলাম চুরির আগে এক মাস ধরে একাধিকবার ব্যাংক এলাকা রেকি করেন। তিনি নিশ্চিত হয়েছিলেন, নির্বিঘ্নে চুরি করে কেটে পড়া যাবে। ব্যাংকের উপশাখায় নিরাপত্তা রক্ষী না থাকার বিষয়টি মাথায় রেখে কম ঝুঁকিতে বড় অংকের দাও মারতে তিনি অন্যদের নিয়ে ব্যাংকের ভোল্ট ভেঙ্গে চুরির পরিকল্পনা সাজান।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃত চারজনের মধ্যে পাভেল ও জাহিদুলের বিরুদ্ধে চুরির মামলা রয়েছে। ২৩ ও ২৪ জুন গ্রেফতার হওয়া চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পারে, ব্যাংক এলাকা রেকি করে ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাটি তারা মাথায় নিয়েছিল। এ নিয়েই পরিকল্পনা সাজায় তারা। ১২ জুন মধ্যরাতে জাহিদুলের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ চক্রটি চুরি করতে মাটিডাল ব্রিজের কাছে একত্র হয়। পরে গ্রেফতার হওয়া বিমল রাজভর ও অপর একজন (এখনো গ্রেফতার হয়নি) ব্যাংকের চারপাশে রেকি করে অন্যদের সবুজ সংকেত দিলে জাহিদুলের নেতৃত্বে বিপ্লব সরকার মিঠু ও পাভেল ব্যাংকের পিছনে অবস্থান নেয়।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, জাহিদুল ও বিমল ব্যাংক ভবনের ওপরে উঠে ছাদের সিঁড়ির দিক থেকে ইট খুলে চুরি করতে ব্যাংকের ভিতরে প্রবেশ করে। এসময় অন্যরা ছিল পাহারায়। জাহিদুল ও বিমল মাস্ক ও পলিথিন দিয়ে মুখ ঢেকে ব্যাংকের সিসি টিভির ক্যামেরাগুলো কাগজ ও টিস্যু দিয়ে ঢেকে দিয়ে চুরির কাজ শেষ করে। তারা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে চুরির কাজ শেষে করে নেমে যায় বলে পুলিশ জানায়। চুরিকৃত টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে বিভিন্ন স্থানে চলে যায় তারা। তার ঠিক করে, পরবর্তীতে আবার টার্গেট নির্ধারণ করে এমন চুরি করবে। এ ধরনের তথ্যই উঠে আসে বগুড়া পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদন্নোতি প্রাপ্ত) সুদীপ কুমারের বক্তব্যে।

প্রথমে পাভেলকে সোনাতলা থেকে ও পরবর্তীতে গত দুই দিনে বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্য দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। দলনেতা জাহিদুলকে পুলিশ গ্রেফতার করে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে। চুরির টাকায় তিনি একটি মোটরসাইকেলও কিনেছিলেন। বেশিরভাগ টাকা অর্থাৎ পাঁচ লাখ টাকাও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়। অন্য তিনজনের কাছ থেকে প্রায় পাঁচ লাখ ৮৫ হাজার টাকা উদ্ধার হয়। গ্রেফতারকৃতদের বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ি থেকে এই টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।

তাদের বাড়ি বগুড়ার সোনাতলা, আদমদিঘী, শিবগঞ্জ ও বগুড়া সদরের বড় টেংরা আদর্শ গ্রামে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আরও কয়েকজন এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতার এবং বাকি টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের প্রত্যেকের লক্ষ্যই ছিল বড় দান মারা। আর এ সুযোগ এনে দেয় তাদের দলনেতা জাহিদুল ও ব্যাংকের উপশাখার দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এর আগে তারা দোকান ও বাসা বাড়িতে চুরি করত। এবার হানা দেয়ে একেবারে ব্যাংকের ভোল্টে।

উল্লেখ, চলতি বছরের শুরুতে বগুড়ার পল্লীমঙ্গল এলাকায় এনআরবিসি ব্যাংকের উপশাখাতেই একই ধরনের চুরি হয়। চোরেরা সেখানেও ভোল্ট ভেঙে ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা চুরি করে। সেখানেও কোনা নিরাপত্তারক্ষী ছিল না। আইএফআইসি ব্যাংকের চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের পুরাতন তদন্তে ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় করা হয়। এই চক্রের পাভেল গ্রেফতার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের উৎসাহ বেড়ে যায়। ধরা পড়ে মুলহোতাসহ আরও দুইজন।

সারাবাংলা/আইই