Thursday 16 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বন্দরের সাবেক কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল, মোবাইল মেকানিক ধরা

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৯ এপ্রিল ২০২৪ ১৯:০১ | আপডেট: ৯ এপ্রিল ২০২৪ ২০:৩৮
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের অবসরে যাওয়া এক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি ছড়ানোর হুমকি দেয়ার পর এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিও বন্দরের অস্থায়ী কর্মচারি এবং পাশাপাশি মোবাইল মেকানিক। বন্দরের সাবেক কর্মকর্তার মোবাইল সেট মেরামতের সময় সেখানে সংরক্ষিত ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে সে টাকা আদায়ের ফাঁদ পেতেছিল।

সোমবার (৮ এপ্রিল) রাতে নগরীর বন্দর থানার নতুন মার্কেটে নিজের মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার জাহাঙ্গীর হোসেন (৩৮) নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা। বন্দর আবাসিক এলাকায় (পোর্ট কলোনি) তার বাসা।

বিজ্ঞাপন

নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সারাবাংলাকে জানান, ঘটনার শিকার ব্যক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের যান্ত্রিক বিভাগে কর্মরত ছিলেন। গত ৫ এপ্রিল তিনি অবসরে যান। তিনি কুমিল্লায় নিজ গ্রামে একটি মাজারের খাদেম।

গত ২ এপ্রিল রাতে বন্দরের সদ্য সাবেক ওই কর্মকর্তার ফেসবুকের মেসেঞ্জারে এমডি খোকন নামে একটি আইডি থেকে মেসেজ আসে। সেখানে ওই কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহুর্তের কিছু ছবি পাঠিয়ে বলা হয়, সেগুলো তাদের আত্মীয়স্বজন ও মাজার কমিটির কাছে পাঠানো হবে। এছাড়া ছবিগুলো দিয়ে পোস্টার বের করার হুমকিও দেয়া হয়। সেটি ঠেকাতে হলে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগের জন্য বলা হয়। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তি বন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পুলিশ পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার শিকার ব্যক্তি কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সহযোগিতা চান। আমরা যে মোবাইল নম্বরটি উনাকে পাঠানো হয়েছিল, সেটিকে সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করি। দেখা যায়, সেই সিমটি আক্রান্ত ব্যক্তির মোবাইল সেটে কোনো একসময় ব্যবহার হয়েছিল। তখন তিনি আমাদের জানান যে, কয়েকমাস আগে তিনি বন্দরের একজন আউটসোসিংয়ের কর্মচারির কাছে মোবাইল সেটটি ডিসপ্লে চেঞ্জ করতে দিয়েছিলেন।’

‘আমরা ওই কর্মচারির মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকানে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। একপর্যায়ে দোকানে থাকা তার ডেস্কটপে বন্দরের সাবেক কর্মচারির পারিবারিক আরও বিভিন্ন ছবি-ভিডিও সংরক্ষিত দেখতে পাই। জিজ্ঞাসাবাদে জাহাঙ্গীর নামে ওই ব্যক্তি স্বীকার করেন, মোবাইল সার্ভিসিংয়ের সময় সে এসব ছবি-ভিডিও নিয়ে ডেস্কটপে রেখে দিয়েছিলেন। তখন থেকেই টাকাপয়সা হাতানোর টার্গেট তার ছিল। ওই ব্যক্তি অবসরে যাবার সঙ্গে সঙ্গেই সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নামে।’

নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক সঞ্জয় গুহ সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, বন্দরের সাবেক ওই কর্মকর্তা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কক্সবাজারে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মুহূর্তের বিভিন্ন ছবি-ভিডিও মোবাইলে তুলে তিনি সংরক্ষণ করেন। মোবাইল নিজের হলেও সেখানে ব্যক্তিগত মুহুর্তের ছবি-ভিডিও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিৎ। অন্যথায় সেগুলো যে কোনোভাবে বেহাত হয়ে যেতে পারে এবং অপরাধীরা সেগুলো ব্যবহার করতে পারে।’

গ্রেফতার জাহাঙ্গীর হোসেনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ পরিদর্শক সঞ্জয় গুহ।

সারাবাংলা/আরডি/এনইউ
বিজ্ঞাপন

আরো