ঢাকা: রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ মাঠে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে আহত আশিক মিয়া (১৯) চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেলে মারা গেছেন।
সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এরআগে মঙ্গলবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে মধুবাগ মাঠের পাশে ছুরিকাঘাতের ঘটনাটি ঘটে। সেদিনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মৃত আশিক কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার ভংগাচর গ্রামের রিকশা চালক শেখ ফরিদের ছেলে। তিনি মীরবাগ এলাকায় থাকতেন এবং ওই এলাকার একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করতে।
আশিকের মা শাহনাজ বেগম জানান, গত ৫ জানুয়ারি আশিকসহ গ্রামের বাড়িতে যান। সেখান থেকে মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় ফেরেন। কিছুক্ষন পর বাইরে যান আশিক। আছর নামাজের পর ফোনের মাধ্যমে জানতে পারেন আশিককে এলাকার নজরুলের ছেলে ছুরিকাঘাত করেছে। তাকে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তখন ওই হাসপাতালে গিয়ে আশিককে আহত অবস্থায় দেখতে পান তারা।
তিনি জানান, তখন আশিকের অবস্থা এতটাই খারাপ ছিলে যে কথা বলতে পারছিলেন না। পরে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কালরাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে এলাকার নজরুলের ছেলেসহ কয়েকজন আশিককে ছুরিকিঘাত করেছে বলে জানতে পারলেও তাদের নাম জানতে পারেননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রতিবেশী শাম্মি খান নামে এক নারী বলেন, আমাদের বাসা মধুবাগ এলাকায়। ঘটনার দিন একটি ছেলে বাসায় খবর দেয় আশিক নামে এক ছেলে মধুবাগ মাঠের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে আছে। তখন দ্রুত সেখানে গিয়ে দেখি, আশিক রক্তাক্ত অবস্থায় রিকশায় উঠছে। তখন আশিককে একটি সিএনজি ভাড়া করে মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং আশিকের মাকে খবর দেওয়া হয়।রাস্তায় আশিক বলে, মইনুদ্দিন, তানভির, জাহাঙ্গির বেলাল, এবং শাম্মি খানের ছেলে রাসেল তাকে ছুরিকাঘাত করেছে।
শাম্মি খান আরও বলেন, আশিকের মা মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে এলে আশিককে সেখান থেকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আমার ছেলেও এ ঘটনায় জড়িত ছিল বলে আশিকের চিকিৎসার সমস্ত খরচ আমি নিজেই দিই। তবে আশিককে আর বাঁচানো যায়নি। এদিকে ঘটনার পর রাসেলকে খুজে পাইনি।
হাতিরঝিল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) তমেজ উদ্দিন আশিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ৯ জানুয়ারি মধুবাগ মাঠের পাশে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়। সেখানে ছুরিকাঘাতে আহত হয় আশিক। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাতে মারা যাণ। আশিকের পিঠে একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।