Tuesday 14 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মেট্রো পেয়ে উচ্ছ্বসিত ঢাবি শিক্ষার্থীরা

ঢাবি করেসপন্ডেন্ট
১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:০২ | আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৭:০৪

ঢাকা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের শিক্ষার্থী অর্ক সাহা। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি-সংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে মাকে নিয়ে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে আপলোড করেন অর্ক। ক্যাপশনে লিখে দেন—‘মায়ের সাথে মেট্রো চড়া’।

পরে অর্কের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে মেট্রোর সুবিধা পাওয়ার কথা বেশ উচ্ছ্বাসের সঙ্গেই জানিয়েছেন সারাবাংলাকে। এই শিক্ষার্থী বলছেন, নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে মেট্রো দেখার, চড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন।

কেবল অর্কই নয়; বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন অসংখ্য শিক্ষার্থী এখন সময় বেঁচে যাওয়ার আনন্দে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।

বিজ্ঞাপন

মাকে নিয়ে মেট্রোতে চড়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে অর্ক সাহা সারাবাংলাকে বলেন, ‘মা ঢাকায় আসেন সকালে। টিএসসিতে মেট্রো স্টেশন দেখে মা বললেন, মেট্রোতেও উঠতে তার মন চাচ্ছে। তারপর ক্যাম্পাস থেকে মতিঝিল হয়ে আবার ক্যাম্পাসে ফিরে আসলাম। মেট্রোতে এতো ভিড় দেখে মা রীতিমতো হতবাক। আমি এর আগেও মেট্রোতে উঠেছি, কিন্তু আজকের অনুভূতি একদম ভিন্ন। এতো শান্তি লাগছিল, মেট্রোতে উঠে দুইপাশে তাকিয়ে মা আশ্চর্য হয়ে বলছিলেন, কীভাবে সম্ভব।

গত বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল আটটায় মেট্রোরেলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং বিজয় সরণি স্টেশন যাত্রীদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এই রুটের ট্রেনটি এখন উত্তরা নর্থ, উত্তরা সেন্ট্রাল, উত্তরা সাউথ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় এবং মতিঝিল স্টেশনে থামবে।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, মেট্রোর সুবিধা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সময় বাঁচিয়ে দেবে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জুড়ে যানজটে বসে থাকার অস্বস্তি আর থাকবে না। শিক্ষার্থীদের মাঝে তাই আনন্দের ফল্গুধারাই বইছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী হেদায়েতুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, ‘অবশ্যই এটা আমাদের সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে। আগে যেখানে আমাদের ক্যাম্পাস থেকে মিরপুর ও উত্তরা যেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে বসে থাকতে হতো, এখন আমরা সেই সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শেষ করে চলে আসতে পারব। আমাদের মূল্যবান সময় আর নষ্ট হবে না। এজন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’

ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য ক্যাম্পাসে যাতায়াত সহজ করেছে মেট্রোরেল।ঢাকা শহরের ট্রাফিক জ্যামে বসে কাউকে আর সময় নষ্ট করতে হবে না। এছাড়াও মেট্রোরেল একটি সাশ্রয়ী যাত্রামাধ্যম যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য নিশ্চিন্তে ব্যবহারযোগ্য। ঢাকার দূর দূরান্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য যাদের নিজস্ব যানবাহন ব্যবহার করতে হতো, তারা এখন সহজেই মেট্রোরেলের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে। এর ফলে একদিকে যেমন যানজট কমবে, তেমন সড়ক দুর্ঘটনাও হ্রাস পাবে।’

টেলিভিশন ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ তুহিন বলেন, ‘ঢাবির বুকে মেট্রো শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ। সেই উত্তরা কিংবা মিরপুর থেকে যারা ক্যাম্পাসে আসে তারা কতোটা কষ্ট করে জ্যাম, ধুলোবালি ঠেলে আসে শুধু তারাই জানে। এছাড়া এসব এলাকায় ক্যাম্পাস থেকে গিয়ে টিউশন করানো সম্ভব ছিল না এতদিন। এখন স্বল্প খরচে শিক্ষার্থীরা দূর দূরান্তের টিউশনগুলো করাতে যেতে পারবে, যা আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদ।’

আরবি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ হাসান বলেন, মেট্রোরেল ঢাবি শিক্ষার্থীদের কাছে বহুদিনের আকাঙ্ক্ষিত। আর টিএসসিতে স্টেশন হওয়াতে আমরা মেট্রোর সুবিধা খুব সহজেই নিতে পারব, প্রতিবার ২০-৩০ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে শাহবাগ স্টেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না।

প্রসঙ্গত, গত ২ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বুকে মেট্রোরেলকে স্বাগত জানিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে উৎসব করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। নাচ-গান-আনন্দ র‍্যালিসহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান তারা।

সারাবাংলা/আরআইআর/আইই
বিজ্ঞাপন

আরো