সিলেট: জেলার ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ ও বর্বর নির্যাতনের বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সাইফুর রহমানের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর থেকেই নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে প্রধান অপরাধী সাইফুর রহমানের পরিচয়, অতীত অবস্থান ও তার অন্ধকার জগতের নানা কর্মকাণ্ড।
ছাত্রাবাস দখল করে অপরাধের রাজত্ব
মামলার নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তবে ঘটনার সময় সে অবৈধভাবে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়কের বাংলো দখল করে থাকতো এবং এটিকে নিজের অপরাধের আস্তানা বানিয়েছিল। সে এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের স্নাতক শ্রেণির অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিল।
পড়াশোনায় অনিয়মিত হলেও ছাত্রাবাস এলাকায় সাইফুরের ছিল একচ্ছত্র আধিপত্য। সে স্থানীয়ভাবে ঐতিহ্যবাহী টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্র রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে চলতো। তার নেতৃত্বে একটি নির্দিষ্ট গ্রুপ টিলাগড় ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো নানা অপরাধমূলক সিন্ডিকেট চালাতো বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
কক্ষ থেকে মিলেছিল পাইপগান ও রামদা
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ছাত্রাবাসের অভ্যন্তরে বর্বরতম ওই অপরাধটি সংঘটিত হওয়ার পরদিনই সাইফুরের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে আরও একটি পৃথক মামলা হয়। শাহপরান থানা পুলিশ ভোররাতে ছাত্রাবাসে সাইফুর রহমানের কক্ষে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় মারাত্মক অস্ত্র উদ্ধার করে। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছিল, সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছিল—যা ছাত্রাবাসে তার নিয়মিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ দেয়।
রায়ের বিস্তারিত ও সাজাপ্রাপ্তরা
আজ ঘোষিত রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছাড়াও মামলার আরও ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্কর। অন্যদিকে, ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল এবং মাহফুজুর রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে স্বামীকে আটকে রেখে তরুণীকে দলবদ্ধভাবে নির্যাতনের ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করলেন।