Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে উচ্ছেদ অভিযানে হামলা, ইউএনও-ওসিসহ আহত ১০

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২৩:২৭

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ উচ্ছেদ অভিযান শেষে প্রশাসনের উপর হামলা চালিয়েছে অবৈধ দখলদাররা। হামলায় একাত্তর টেলিভিশনের গাড়ীসহ বেশ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করে তারা। এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ নয়জন পুলিশ গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফায়েল আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে আমরা অভিযানে গিয়েছিলাম। পাহাড় কেটে অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৯০ শতাংশ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফেরার পথে হঠাৎ কয়েক’শ নারী পুরুষ ভূমিদস্যু ইয়াছিনের নেতৃত্বে পাহাড়ের চূড়ায় উঠে অতর্কিতভাবে পাথর নিক্ষেপ করতে থাকে।’

বিজ্ঞাপন

‘হাতের কাছে যা পেয়েছে তাই আমাদের ওপর ছুড়েছে। শাবল, রড, ইট সব। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও আমিসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হই। আমি এখনও হাত নাড়াতে পারছি না। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে।’

একাত্তর টেলিভিশনের, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি প্রণবেশ বড়ুয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘অভিযান শেষে যখন সবাই ফিরে যাচ্ছিল তখন হামলাটা হয়। এতে আমাদের গাড়ির সামনের গ্লাস ভেঙে যায়। গাড়ির ড্রাইভারও সামান্য আহত হয়।’

এদিকে এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সংবাদ সম্মেলন করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আল নাসিফ বলেন, ‘চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গত বছর দখলদারদের উচ্ছেদ করে সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে সরকারি খাস দশ একর জমি উদ্ধার করা হয়। কিছুদিন পর অবৈধ দখলদাররা আবার উদ্ধার করা জমি দখলে নেয়। সেই জমি পুনরুদ্ধার করতে জেলা প্রশাসন আবারও অভিযান চালায়।’

‘অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএনের সদস্যরা অংশ নেয়। অভিযানে প্রায়ই ১২০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। আমাদের অভিযান কিন্তু সফল। কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে দখলদাররা হামলা চালায়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে এম রফিকুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আমাদের অভিযান অব্যহত থাকবে। যারা হামলার সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী— সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ে ৫টি মৌজায় প্রায় ৩১০০ একর সরকারি খাসজমি আছে। ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন সেই খাসজমি দখল করে প্রায় তিন দশক ধরে সেখানে পাহাড় কেটে ও জঙ্গল সাফ করে প্লট বিক্রি করে আসছিল।

নিম্ন আয়ের লোকজন সেই প্লট কিনে সেখানে বসতি ও দোকানপাট গড়ে তোলে, যার মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাও আছে। জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সেখান থেকে তাদের সরাতে পারেনি। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ওই এলাকায় প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বসবাস করে।

২০২২ সালে সলিমপুর থেকে অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে সরকারি খাসজমিগুলো উদ্ধার করে সেখানে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সারাবাংলা/আইসি/একে