চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে কিশোর যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে তাকে নামিয়ে দেওয়ার পর জনতা একটি বাস আটকে তিনজনকে পুলিশে দিয়েছে। পরে পুলিশ কিশোরের মোবাইল উদ্ধার করে ঘটনায় জড়িত আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার চারজন বিভিন্ন বাসে চালক-সহকারী হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি তারা সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রেও জড়িত।
শনিবার (৫ আগস্ট) রাতে নগরীর বন্দর থানার দুই নম্বর মাইলের মাথা এলাকায় চলন্ত বাসে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেফতার চারজন হলেন- মাহাদুল করিম (২০), রাকিব প্রকাশ মেহেদী (১৯), সাইদুল ইসলাম জিসান (১৯) ও মো. মফিজ (২৯)।
বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সঞ্জয় কুমার সিনহা সারাবাংলাকে জানান, রাঙ্গামাটির লংগদু থেকে বোনের বাসায় বেড়াতে চট্টগ্রাম শহরে আসেন ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর। নগরীর ষোলশহর থেকে ১০ নম্বর সিটি সার্ভিসের বাসে উঠেন। কিন্তু মাইলের মাথা এলাকায় গন্তব্যে পৌঁছালেও তাকে নামিয়ে দেয়নি বাসের চালক ও সহকারী। তাকে ভয় দেখিয়ে একটি সিটে বসিয়ে রাখে তারা।

ইপিজেড ও কাটগড় এলাকায় যাত্রী নামিয়ে ফিরতি পথে ওই ছেলেকে নিয়ে আসার সময় তার থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে কৌশলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে কিশোরের চিৎকারে বাসে থাকা কয়েকজন নারী যাত্রী, যারা ফিরতি পথে উঠেছিল, তারা স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের ধরে মারধর করে টহলরত পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এর মধ্যে ছিনতাই করা মোবাইল নিয়ে আরেকজন পালিয়ে যায়। এরপর পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় চাঁন্দগাও থেকে ওই মোবাইলসহ পালিয়ে যাওয়া মেহেদীকে গ্রেফতার করে।
মোবাইল উদ্ধারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কিশোর মজুমদার সারাবাংলাকে বলেন, ’গ্রেফতার চারজন সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের সদস্য। এই চক্রের মূলহোতা মাহাদুল। সে মূলত বদলি হেলপার। আর মফিজ ড্রাইভার। এরা সবাই আজ এক বাসে তো কাল আরেক বাসে বদলি হিসেবে কাজ করে। পরে সুযোগ বুঝে যাত্রীদের ভয় দেখিয়ে বা সুকৌশলে সব হাতিয়ে নেয়।’
গ্রেফতার চারজনকে রোববার দুপুরে আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।