চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে একটি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও নগরীর বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। নির্ধারিত লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি এই সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।
রোববার (২৩ জুলাই) বিকেলে নগরীর মুরাদপুর বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী রেজাউল করিম চৌধুরী।
চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে মুরাদপুর সাবস্টেশনে আগুন লাগার তথ্য আসে নিয়ন্ত্রণ কক্ষে। দু’টি গাড়ি নিয়ে ফায়ার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সাবস্টেশনের ব্রেকার ইনসুলেশন ব্রেক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর দোতলায় প্যানেল বোর্ড আগুনে পুড়ে গেছে।
আগুনে প্রায় সাত লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা রক্ষা পেয়েছে বলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের কারণে নগরীর পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাট, খুলশী, ষোলশহর, লালখান বাজার, স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকায় মারাত্মক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন কাটাতে হচ্ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের। তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ সংকটে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা।
পিডিবি কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘মুরাদপুর সাবস্টেশনে একটি কক্ষের ভেতরে ব্রেকারের একটি বক্সে আগুন লেগেছিল। আগুন লাগার পর আমরা টোটাল সাবস্টেশন থেকে পাওয়ার সাপ্লাই বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে আগুন নির্বাপন হয়ে গেছে। এখন আমরা ধীরে ধীরে পাওয়ার সাপ্লাই শুরুর চেষ্টা করছি। কয়েক ঘন্টার মধ্যে সাপ্লাই প্রায় স্বাভাবিক হবে।’
‘তবে একটা ফিডার চালু করা সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে আমরা অন্য সাবস্টেশন থেকে পাওয়ার লোড করে সাপ্লাই করবো। এতে কিছু কিছু এলাকায় সাময়িক লোডশেডিং বাড়তে পারে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।’