Sunday 12 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৭৫০ একর কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটির মানববন্ধন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৯ মার্চ ২০২৩ ১৭:২৬

ঢাকা: ‘৭৫০ একর কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র উদ্যোগে রাজধানী ঢাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিন ফসলি জমিতে নেয়া মাদারগঞ্জ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল ও নদী সিকস্তি অঞ্চলে ডিএস, সিএস, এসএ রেকর্ড এবং চিটার ভলিউম দেখে প্রজাস্বত্ব বহাল ও খাজনা-খারিজ চালুসহ ৭ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে মানববন্ধনে।

রোববার (১৯ মার্চ) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানবন্ধনে সভাপতিত্ব করেন ‘৭৫০ একর কৃষি জমি রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’ ও ‘চরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটি’র আহ্বায়ক নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান প্রবীণ কৃষক নেতা আব্দুল কাদের।

সংগ্রাম কমিটির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক কৃষকনেতা জাহিদ হোসেন খানের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জামালপুর জেলার কৃষকনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী আক্কাস, বিশিষ্ট কবি ও সুরকার আলতাফ হোসেন মাস্টার, কৃষক সমিতি সিরাজগঞ্জ জেলার নেতা গোলাম ফারুক বিএসসি, বগুড়া জেলার নেতা মো. আইনুদ্দিন, ভুক্তভোগী কৃষক আব্দুল মান্নান আকন্দ, আশরাফ আলী প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

মানববন্ধনের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)’র সহ-সাধারণ সম্পাদক কমরেড মিহির ঘোষ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী, হকার্স ইউনিয়ন নেতা সেকান্দার হায়াৎ, যুবনেতা মেহেদী হাসান মিন্টু প্রমুখ।

মানববন্ধনে সংগ্রাম কমিটির নেতারা বলেন, দেশের নদী সিকস্তি অঞ্চলে বসবাসকারি তিন কোটি মানুষ জানমালের ঝুঁকি নিয়ে সকল প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অনাবাদযোগ্য উঁচুনিচু জমি আবাদযোগ্য করে দেশের কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও সকল গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল আন্দোলনে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, কৃষকের ভূমির অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুগযুগ ধরে লড়াই করেছে। তাই স্বাধীনতার পর এ অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা ছিল তাদের ভাগ্যের বদল হবে কিন্তু স্বাধীন দেশে সমস্যার সমাধান হয়নি বরং উপনিবেশিক শাসন আমলের আদলে নতুন আইন ও আইনের সংশোধন করে বাপদাদার পৈতৃক জমির অধিকার হরণ করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, আইনের মারপ্যাঁচে আজ চরের মানুষ তার পৈতৃক জমির প্রজাস্বত্ব হারিয়েছে। এই সুযোগ নিয়ে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে প্রভাবশালী স্বার্থান্বেষী মহল কৃষকদের জমি জবরদখল করে তিন ফসলি জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে তোড়জোড় শুরু করেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন- তিন ফসলি জমিতে কোন প্রকল্প নয় এবং কোন জমি পতিত রাখা যাবে না। এরা লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অগ্রাহ্য করে কৃষকদের বঞ্চিত করে যেখানে বিদ্যুতের সুব্যবস্থা আছে সেখানেই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করতে চায়। আর কৃষকরা যাতে ক্ষতিপূরণ না পায় সেজন্যে প্রভাব খাটিয়ে বগুড়া জেলার ধরাবর্ষা মৌজার একাংশ জামালপুর জেলার সাথে যুক্ত করে কাইজার চর নামে ভুয়া মৌজা তৈরি করে খাস খতিয়ানে এনে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।

বক্তারা আরও বলেন, ভূমি অফিস, জেগে উঠা চরে পূর্বতন মালিক বা তার উত্তরাধিকারকে জমি খারিজ দেয় না। বিগত সময়ে বিভিন্ন জরিপে নিজ নামে জমি-জমা রেকর্ড করা সত্ত্বেও ভূমি অফিস খাজনাদি না নেওয়ায় এসব অঞ্চলের মানুষ জমিজমা ক্রয়-বিক্রয় করতে পারছে না। এতে এসব অঞ্চলের মানুষ জমিজমা থাকা সত্ত্বেও উচ্চশিক্ষা ও জরুরি চিকিৎসা নিতে পারছে না।

বক্তারা বলেন, বালু মাফিয়াচক্র ড্রেজিং এর নামে কৃষকদের কায়েমি জমি কেটে নিচ্ছে। নদীর পাড় সংরক্ষণও ঢালু সঠিক মাপমতো না করায় নদী খননের পরে জমিজমা ভেঙে আবার নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। নদী ভাঙন রোধে ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেই। তাই নদী সিকস্তি অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই লড়াই সংগ্রামে নামতে হয়েছে। আমরা আজ ঢাকায় মানববন্ধন করছি। আমরা প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের সকল সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই- আমাদের এই ন্যায়সঙ্গত দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।

বক্তারা সংগ্রাম কমিটির ৭ দফা দাবী আদায়ে চলমান লড়াই জোরদার করার জন্যে চরাঞ্চলে গ্রামে গ্রামে কমিটি করে আন্দোলনে শামিল হওয়ার জন্য চরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

মানববন্ধনে উত্থাপিত ৭ দফা দাবি হলো, মাদারগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করে অন্যত্র স্থানান্তর করতে হবে। বগুড়া জেলার ধরাবর্ষা মৌজার একাংশে ভুয়া জেএল, ভুয়া মৌজা তৈরি করে খাস খতিয়ানে এনে কৃষকদের জমি হরণের চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। মাদারগঞ্জে কৃষি জমি রক্ষায় আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি দিতে হবে। বিনা ক্ষতিপূরণে কৃষকের জমিতে কোন প্রকল্প মানি না, তিন ফসলি জমিতে প্রকল্প নেওয়া যাবে না। অবিলম্বে ভূমি আইন ২০২২ সংসদে পাস, চরাঞ্চলে ডিএস, সিএস, এসএ, আরএস রেকর্ড ও চিটার ভলিউম দেখে প্রজাস্বত্ব বহাল ও খাজনা-খারিজ চালু করতে হবে। নদী ভাঙন রোধে ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। চরাঞ্চল, বীর অঞ্চল ও শহরে ভিন্ন ভিন্ন জমির সিলিংয়ের বন্দোবস্ত রেখে সারাদেশে গ্রাম-শহরে ব্যক্তিগত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির সিলিং পুনঃনির্ধারণ করতে হবে। উদ্বৃত্ত সম্পত্তি ভূমিহীন-আশ্রয়হীন মানুষের মাঝে বণ্টন করতে হবে।

সারাবাংলা/আইই