ঢাকা: রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে তিনগুণ বেশি চলাচল করছে। এতে বাড়ছে শব্দ দূষণ। আর এই ব্যাটারিচালিত যানবাহনই পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে পরিচিত রাজশাহী শহরের শব্দ দূষণের জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী।
সোমবার (৯ জানুয়ারি) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ অধিদফতরের ‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন বক্তারা।
পরিবেশ অধিদফতরের বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে জরিপ ও মতবিনিময় সভার কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতায় আছে ইকিউএমএস কনসালটিং লিমিটেড এবং বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যায়ণ কেন্দ্র (ক্যাপস)।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন ও আইসিটি) এ.এন.এম মঈনুল ইসালামের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জনাব জি এস এম জাফরউল্লাহ এনডিসি।
তিনি বলেন, রাজশাহী একটি পরিছন্ন শহর হলেও বর্তমানে কিছু উন্নয়নমূলক কাজ ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের কারণে শব্দ দূষণ পরিলক্ষিত হচ্ছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশন থেকে ১০ হাজার ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে তিনগুণ বেশি চলাচল করছে।
এসময় বিভাগীয় কমিশনার মাত্রতিরিক্ত শব্দ উৎপন্নকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা ও শাস্তি প্রদানের জন্য পুলিশ বিভাগ, বিআরটিএ, পরিবেশ অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনকে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশনা দেন।
এ.এন.এম মঈনুল ইসালাম বলেন, দীর্ঘমেয়াদী শব্দ দূষণের ফলে একটি বধির জাতির দিকে আমারা এগিয়ে যাচ্ছি। সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলকভাবেই রাজশাহীতে শব্দ দূষণ রুখতে হবে। নচেৎ উন্নত দেশের স্বপ্নে বাধা হবে শব্দ দূষণ।
স্বাগত বক্তব্যে ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, শব্দ দূষণসহ পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে, তবে আইনের প্রয়োগ হোক সর্বেশেষ পদক্ষেপ এবং সচেতনতাই হোক সর্বপ্রথম পদক্ষেপ।
প্রকল্পের পরামর্শক মো. মেহেদী হাসান বলেন, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এবং সচেতনাতা বৃদ্ধিতে পরিবেশ অধিদফতর আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে, এজন্য জনগণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।
সভায় প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র উপস্থাপন করেন প্রকল্পের মাঠ সমন্বয়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. নাছির আহম্মেদ পাটোয়ারী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সরকারি বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন, সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, ডাক্তার, বাসমালিক সমিতির সদস্য, সাংবাদিক, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও পরিবেশবিদসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।