Friday 10 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নৌকা চালানোর শখ মেটাচ্ছে ‘কায়াক বোট’

প্রান্ত রনি, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৪৫ | আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ০৩:১৬

রাঙ্গামাটি: প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে বিকেলের মৃদুমন্দ বাতাসে নৌকা চালাতে কার না ভালো লাগে? আর তাইতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে সঙ্গে নিয়ে ইচ্ছেমতো নৌকা চালানোর শখ পূরণে অনেকেই করছেন কায়াকিং।

কায়াক দেখতে ছোট্ট একটি ডিঙি নৌকার মতো। সর্বোচ্চ তিনজন বসতে পারেন এই ছোট্ট সরু নৌকাতে। ফাইবার, কাঠ ও পাটের তন্তু দিয়ে তৈরি সরু নৌকাটি চালাতে বেগ পেতে হয় না একেবারেই। কেবল নৌকা ডানে ও বামে নেওয়ার কৌশল রপ্ত করতে পারলেই তর তর করে চলতে শুরু করবে সামনের দিকে। ট্যুরস এজেন্ট ডাইভার্সিটি ট্যুরস্-এর কল্যাণে তরুণদের ক্রেজে পরিণত হয়েছে রোমাঞ্চকর এই নৌ-ভ্রমণ।

২০১৭ সালের শেষ দিকে ভেন্যু পার্টনার হিসেবে রাঙ্গামাটির বেরান্নে লেকশোর ক্যাফেতে পাঁচটি কায়াক বোট দিয়ে কাপ্তাই হ্রদে কায়াকিংয়ের সূচনা ঘটায় স্থানীয় ট্যুরস এজেন্ট ডাইভার্সিটি ট্যুরস্। এরপরের বছর মোট ২৯টি কায়াক বোট বানায় ডাইভার্সিটি ট্যুরস। এর আগে জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কায়াক ক্লাবের উদ্যোগ কায়াকিং চালু হলেও সেটি মূলত ছিল কর্ণফুলী নদীতে। কাপ্তাই হ্রদে কায়াকিং-কে জনপ্রিয় করেছে ডাইভার্সিটি ট্যুরস্।

বিজ্ঞাপন

ফ্রান্স ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক ইপস মারে এর প্রতিষ্ঠিত ‘তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড’ কায়াক বোটগুলো তৈরি করেছে। বর্তমানে ডাইভার্সিটি ট্যুরস ছাড়াও বিভিন্ন পর্যটন উদ্যোগী প্রতিষ্ঠান ‘তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড’ থেকে কায়াক বোট ক্রয় করেছে। বিশেষ জেলকোড ও পাইবার ব্যবহার করে কায়াকবোটগুলো তৈরি করা হয়ে থাকে। একটি বোট তৈরিতে লাগে ১০-১৫ দিন সময়। আগে ৪৫-৫০ হাজার টাকার মধ্যে একটি ডাবল কায়াক বোট তৈরি করা গেলেও এখন কাঁচামালের দামবৃদ্ধিতে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে প্রায় এক তৃতীয়াংশ।

২০১৭ সালের নভেম্বরে রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার বেরাত্রে শেকশোর ক্যাফেতে যাত্রা শুরুর পর রাঙ্গামাটিতে জেলা পুলিশের পলওয়েল পার্কেও চুক্তিভিত্তিক ১০টি কায়াক বোট পরিচালনা করে ট্যুর এজেন্টটি। তবে বেরান্নে লেকশোর ক্যাফে ও পলওয়েল পার্ক এখন নিজস্ব উদ্যোগে কায়াক বোট চালু করলেও বর্তমানে বড়গাঙ ১৯টি ও নীলাঞ্জনা বোট রিসোর্টে ১০টি কায়াক বোট রয়েছে।

রাঙ্গামাটিতে কায়াকিং চালুর মধ্য দিয়ে কাপ্তাই হ্রদে ‘ওয়াটার বেইজড’ (পানি নির্ভর) পর্যটনের উদ্যোগ আরো সমৃদ্ধ হয়েছে বলে মনে করেন ডাইভার্সিটি ট্যুরস্-এর প্রতিষ্ঠাতা রিটন চাকমা।

আলাপকালে রিটন সারাবাংলাকে জানান, কাপ্তাই হ্রদে ট্যুরিস্ট বোট ছাড়া আগে ওয়াটার বেইজড এক্টিভিটি ছিল না। ২০১৭ সালে আমরা ডাইভার্সিটি ট্যুরস্ এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কায়াকিং চালু করি। বেরান্নেতে পাঁচটি বোট দিয়ে আমাদের শুরুটা হলেও এখন ২৯টি বোট ও একটি সাম্পান নৌকা রয়েছে। আমাদের একসময়কার ভেন্যু পার্টনার বেরান্নে ও পলওয়েল পার্ক এখন নিজস্ব উদ্যোগে কায়াকিং পরিচালনা করছে।

রিটন চাকমা জানান, ফ্রান্সের নাগরিক ইপস মারে-এর প্রতিষ্ঠিত তাড়াতাড়ি শিপইয়ার্ড থেকে তারা কায়াক বোটগুলো বানিয়েছেন। বর্তমানে শিপইয়ার্ডের অংশ হিসেবে নিজেরাই বোট তৈরি করে যাচ্ছেন। তবে তাদের কাজে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো কায়াক বোট কখনোই ডুবে যাবে না, ভেসে থাকার অনন্য কৌশল রয়েছে। পানিনির্ভর এই এক্টিভিটি চালুর পর শুধুমাত্র কাপ্তাই হ্রদে কায়াকিং করার জন্যই বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাঙ্গামাটিতে ছুটে আসছেন।

রিটন চাকমা বলেছেন, তাদের দুই ধরনের কায়াক বোট রয়েছে। এরমধ্যে ডাবল (দুইজন ) কায়াক বোটগুলো প্রতি ঘণ্টায় ২০০ টাকা ও ট্রিপল (তিনজন) কায়াকবোটগুলো প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ টাকা হারে ভাড়া দেওয়া যায়। ডাইভার্সিটি ট্যুরস্-এর অধীনে এখন ২২টি ডাবল ও সাতটি ট্রিপল কারাক বোট রয়েছে। তবে কায়াকিং এর সময়ে বেশকিছু রীতি নিয়ম মানতে হয়। বিশেষত লাইফজ্যাকেট পরিধান, ধূমপান থেকে বিরত থাকা ও নিয়য়ানুযায়ী কায়াকিং করা।

তিনি বলেন, ‘করোনার আগের সময়ে আমাদের সপ্তাহে ৫-৭ হাজার টাকা কায়াক বোট থেকে আয় হতো, মৌসুমে আরো বাড়ত। তবে করোনার পরবর্তী সময়ে কায়াকিং ট্যুরিজমে কিছুটা ভাটা পড়েছে। যে কারণে পাঁচ থেকে ছয়জন কর্মীর স্থলে এখন দুইজন কর্মী রয়েছে ডাইভার্সিটি ট্যুরসের কায়াকিং পরিচালনা কাজে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দশ হাজার মানুষ ডাইভার্সিটি ট্যুরস-এর মাধ্যমে কায়াকিং করেছে।’

সারাবাংলা/ এনইউ