খুলনা: টানা বৃষ্টিতে ফের জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে খুলনা মহানগরীর বিস্তীর্ণ এলাকা। হাঁটু থেকে কোথাও কোথাও কোমরসমান পানি জমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষ, রিকশা ও ইজিবাইক চালক, পথচারী এবং শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েকগুণ। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮২৩ কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রয়্যাল মোড়, মডার্ন ফার্নিচার মোড়, বাইতিপাড়া, শান্তিধাম মোড়, শিববাড়ী মোড়, তেঁতুলতলা, পিটিআই মোড়, স্যার ইকবাল রোড, রেলওয়ে হাসপাতাল এলাকা, মিস্ত্রিপাড়া, খুলনা কলেজিয়েট গার্লস স্কুল ও কেসিসি উইমেন্স কলেজ এলাকা, বড় খালপাড়, মোল্লাপাড়া, জিন্নাহপাড়া, মতিয়াখালী, ইসলামপাড়া, মোহাম্মাদিয়াপাড়া, টিবি ক্রসরোড, মৌলভীপাড়া, পশ্চিমপাড়া, মহিরবাড়ী খালপাড়, বাগমারা, রূপসা স্ট্যান্ড, আহসান আহমেদ রোড, বাবুখান রোড, টুটপাড়া সেন্ট্রাল, শিপইয়ার্ড রোড, বাস্তুহারা, নতুন বাজার ও কেডিএ অ্যাভিনিউসহ বিভিন্ন এলাকা বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা এলেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৮২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া প্রকল্পের আওতায় গত সাড়ে ৫ বছরে সাতটি খাল খনন এবং দুই শতাধিক ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও প্রত্যাশিত সুফল মিলছে না।
রয়্যাল মোড় এলাকার বাসিন্দা তাইফুর শেখ বলেন, ‘এটা নতুন কিছু নয়। বর্ষা এলেই আমাদের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্রতিবছর একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমরা এই জলাবদ্ধতা থেকে স্থায়ী মুক্তি চাই।’
দোলখোলা এলাকার বাসিন্দা কাইয়ুম শেখ বলেন, ‘কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই এলাকার রাস্তাঘাট পানির নিচে চলে গেছে। অনেক বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে।’
ইজিবাইকচালক আরাফাত শেখ বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে অনেক সড়কে পানি জমে গেছে। যাত্রীও কম। কিন্তু কিস্তির চাপ থাকায় গাড়ি নিয়ে বের হতে হয়েছে। আয় না হলে সংসার চালানো কঠিন।’
খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. মিজানুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত খুলনায় মোট ১৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘জলাবদ্ধতা খুলনা নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যা। সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকা ডুবে যায়। সঠিক পরিকল্পনা ও দূরদর্শিতার অভাবে এটি এখন নগরবাসীর জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে।’
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রধান কনজারভেন্সি কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ভারী বৃষ্টির কারণে জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু সারাবাংলাকে বলেন, ‘বিগত সময়ে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অসমাপ্ত ড্রেন নির্মাণ, রূপসার পাম্পহাউস বন্ধ থাকা এবং স্লুইস গেটগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় নগরীর পানি দ্রুত নদীতে নামতে পারছে না। এ কারণেই জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কাজ শুরু হলেও পুরো ব্যবস্থা কার্যকর হতে আরও এক থেকে দেড় বছর সময় লাগতে পারে।’
নগরবাসীর প্রত্যাশা, প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি বন্ধে দ্রুত কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।