ঢাকা: শক্তিশালী হচ্ছে ৫ নিউক্লিয়ার মেডিসিন ইনস্টিটিউট। এ জন্য ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) মিটফোর্ড, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ধরা হয়েছে ২১৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনসাম) মিটফোর্ড, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার জন্য কিছু নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা এবং রোগীর সেবাকার্যক্র বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। দেশের উল্লেখিত জেলাগুলোর দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে ন্যূনতম খরচে সর্বশেষ এবং উন্নত পারমানবিক চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে প্রকল্পটির দায়িত্বপ্রপ্ত পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের সদস্য নাসিমা বেগম সারাবাংলাকে বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের ইন্সটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনসাম) মিটফোর্ড, কুমিল্লা, ফরিদপুর, বরিশাল ও বগুড়ার জন্য কিছু নতুন আধুনিক যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হবে। রোগীর সেবাকার্যক্রম বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। দেশের উল্লেখিত জেলাগুলোর দরিদ্র ও সাধারণ মানুষকে ন্যূনতম খরচে সর্বশেষ এবং উন্নত পারমানবিক চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য ইনস্টিটিউটগুলোর রোগ নির্ণয়ে সামর্থ্য বৃদ্ধি এবং রোগীর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নতকরণ এবং পারমাণবিক পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পথ সুগম হবে। যা পরোক্ষভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে।
পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর চলতি বছরের ১৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, পরমাণু চিকিৎসা একটি দ্রুত আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি। এই চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে বিভিন্ন জটিল রোগের তথ্যাদি অতি সূক্ষ্মমাত্রায় রোগের শুরুতেই শনাক্ত করা সম্ভব। পরমাণু চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের রোগ নির্ণয়ের পাশাপাশি রেডিও আইসোটোপ প্রয়োগের মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সারসহ থাইরয়েড সম্পর্কিত অন্যান্য রোগের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। নির্ভুলভাবে রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতার কারণে আগামীতে এই চিকিৎসা পদ্ধতির সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা আরও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি এই চিকিৎসা পদ্ধতির ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হবে।
বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন নানাবিধ গবেষণা কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছরের অধিক সময় ধরে পরমাণু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছে। সাধারণ জনগণকে স্বল্পমূল্যে পরমাণু চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সস (ইনমাস) স্থাপনের মাধ্যমে এ চিকিৎসা সেবার পরিধি বাড়ানো হয়েছে। স্থাপিত ইনমাসগুলো পেটসিটি স্ক্যানের মাধ্যমে ক্যান্সার, করোনারি আর্টারি ডিজিস, ব্রেইন ডিজঅর্ডার, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিনের মাধ্যমে যকৃত, পিত্তথলি, কিডনি রোগ, জরায়ু ও ডিম্বাশয়ের রোগ, থাইরয়েড, ব্রেস্ট ও অন্যান্য ক্ষুদ্র অঙ্গের পরীক্ষা, হাত ও পায়ের রক্তনালীর রোগ নির্ণয়, পেটের ধমনীর এ্যানুরিজম শনাক্তকরণ, বিএমডি মেশিনের মাধ্যমে অস্টিপ্রোসিস অর্থাৎ হাড়ের ক্ষয়রোগ নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসা পরবর্তী উন্নতির পরিমাণ নিরুপণ করা হয়। এছাড়াও স্থাপনাগুলো রেডিওথেরাপির মাধ্যমে থাইরয়েড ক্যান্সারের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে, ১০৩টি বৈদেশিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়, ৬২৮টি স্থানীয় যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য সরঞ্জাম ক্রয়, ৭৬৯টি আসবাবপত্র সংগ্রহ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম কেনা। এ ছাড়া তিনটি যানবাহন ভাড়া বাবদ প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করা হবে।