চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরীতে আওয়ামী লীগ দলীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাসা থেকে তার পুত্রবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কাউন্সিলরের পরিবার দাবি করেছে, পুত্রবধূ আত্মহত্যা করেছেন। তবে মেয়েটির বাবা দাবি করেছেন, তাকে হত্যা করা হয়েছে।
শনিবার (২ জুলাই) সকালে নগরীর পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মৃত রেহনুমা ফেরদৌস মিতুল চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নুরুল আমিনের ছেলে নওশাদ আমিনের স্ত্রী। মিতুলের বাবা তারেক ইমতিয়াজ চসিকের ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর প্রয়াত তারেক সোলায়মান সেলিমের বড় ভাই।
তারেক ইমতিয়াজ সারাবাংলাকে জানান, বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা নওশাদের সঙ্গে চার বছর আগে মিতুলের বিয়ে হয়। তাদের দুই বছর আট মাস বয়সী একটি মেয়ে আছে।
বিয়ের পর থেকেই মিতুলকে শ্বশুরপক্ষের লোকজনের মানসিক নির্যাতন করতো অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গত ইদুল ফিতরের তিনমাস আগে মিতুল আমাদের বাসায় চলে আসে। তিনমাস সে আমাদের বাসায় ছিল। পরে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিনের মধ্যস্থতায় মেয়েকে ইদের পর শ্বশুরবাড়ি পাঠাই। কিন্তু নওশাদ আমার মেয়ের সঙ্গে একই কক্ষে থাকত না। এভাবে আমার মেয়েকে দিনের পর দিন নির্যাতন করেছে। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা আইনগত পদক্ষেপ নেব।’
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘সকালে গৃহবধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ওই বাসায় যাই। সেখানে তার লাশ একটি শোয়ানো অবস্থায় আমরা পাই। পরিবারের লোকজনের বক্তব্য হচ্ছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি পরিষ্কার হবে।’
এ বিষয়ে কাউন্সিলর নুরুল আমিনের বক্তব্য জানতে পারেনি সারাবাংলা।