Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে বাংলাদেশ বিশ্বে স্বমহিমায় অধিষ্ঠিত’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ মার্চ ২০২২ ১৯:৩০

ঢাকা: বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আজ গোটা বিশ্ব দরবারে আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট জাজেস স্পোর্টস কমপ্লেক্সে আয়োজিত নবনির্মিত ১২তলা ‘বিজয়-৭১ ভবন’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে প্রায় প্রতি দুই কর্ম দিবসে একটি করে পূর্ণাঙ্গ আইন তৈরি হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা বঙ্গবন্ধুর কল্পনাতীত পরিশ্রমের ফসল। তার বিচার বিভাগ তথা আইনি ভাবনাগুলো আজকের একবিংশ শতকে পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায়ও ভীষণ রকম প্রাসঙ্গিক ও অনিবার্য হয়ে আমাদের সামনে এসেছে। আর তারই দেখানো পথ ধরে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আজ গোটা বিশ্ব দরবারে আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতির সুদীর্ঘকালব্যাপী লালিত স্বপ্নের চূড়ান্ত রূপায়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর জাতির জনক আমাদের উপহার দিয়েছিলেন। জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের বুননে সুবিন্যস্ত অভূতপূর্ব এক দলিল- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের পবিত্র সংবিধান। সেখানে সুপ্রিম কোর্ট প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বিচারকার্য পরিচালনায় বিচারকগণের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতার সর্বোত্তম রক্ষাকবচ রাখা হয়েছে। ১৯৭২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধুর দীপ্তিমান উপস্থিতিতে তারই হাত ধরে সংবিধানের অধীনে গৌরবময় যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের। সেদিন এ উচ্চ আদালত উদ্বোধনকালে যে উৎসাহব্যঞ্জক ও অমিয় প্রত্যাশাবাণীর উচ্চারণ করেছিলেন জাতির পিতা, তার জন্মশত বার্ষিকীর এই শেষ লগ্নে তা স্মরণ না করে পারছি না, তিনি বলেছিলেন, ‘‘আইনের শাসন এদেশে হবে এবং আমাদের শাসনতন্ত্র যে হয়েছে, আমরা চেষ্টা করব, সকলে মিলে আমরা চেষ্টা করব, যাতে এটার যে আদর্শ দেওয়া হয়েছে, আদর্শকে রক্ষা করা এবং এখানে সুপ্রিম কোর্টের অনেক দায়িত্ব রয়েছে এবং আপনাদের যে সাহায্য সহযোগিতা প্রয়োজন, আপনারা সেটা পাবেন। আপনাদের কোন কাজে আমরা ইন্টারফেয়ার করতে চাই না। আমরা চাই যে, দেশে আইনের শাসন কায়েম হউক।’’

এই বক্তব্যে বিচার বিভাগ নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারার মৌলিক অংশ প্রতিভাত হয়। যেখানে তিনি স্বাধীন ও গতিশীল বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় তার সংকল্পের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। যুগের চাহিদা অনুযায়ী একটি শক্তিশালী বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় আইনব্যবস্থার আমূল সংস্কারের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

ইতিহাসের সত্যনিষ্ঠ বাস্তবতার নিরিখে বলতে হয়, স্বাধীন বাংলাদেশের আইন ও বিচার কাঠামোর স্বার্থক সূত্রপাত করেছিলেন বঙ্গবন্ধুই। জাতির পিতা এই ভূখন্ডের যোগ্যতম অভিভাবক হিসেবে সুখী সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল আইনি, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, নীতিগত, ভৌত, অভৌত ও অবকাঠামোগত প্রতিষ্ঠানগুলো মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে তৈরি করেছিলেন। বাংলাদেশের জাতীয়, আন্তর্জাতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, সামষ্টিক, রাষ্ট্রায়ত্তকরণসহ, পরিবেশ, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য, শিক্ষা, সাহিত্য, সমুদ্র, পতাকা, যুদ্ধাপরাধী ও দালালদের বিচার ইত্যাদি এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নেই, যেখানে তিনি উপযুক্ত আইনি কাঠামো প্রণয়ন করেননি।

বঙ্গবন্ধুর সময়ে প্রণীত শুধুমাত্র ১৯৭২ সালে পবিত্র সংবিধানসহ ১৫৬টি পূর্ণাঙ্গ আইনই এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। অর্থাৎ, ওই সময়ে তার শাসন আমলে প্রায় প্রতি দুই কর্ম দিবসে একটি করে পূর্ণাঙ্গ আইন তৈরি হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটা বঙ্গবন্ধুর কল্পনাতীত পরিশ্রমের ফসল। তার বিচার বিভাগ তথা আইনি ভাবনাগুলো আজকের একবিংশ শতকে পরিবর্তিত বিশ্ব ব্যবস্থায়ও ভীষণ রকম প্রাসঙ্গিক ও অনিবার্য হয়ে আমাদের সামনে এসেছে। আর তারই দেখানো পথ ধরে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রোল মডেল হিসেবে বাংলাদেশ আজ গোটা বিশ্ব দরবারে আপন মহিমায় অধিষ্ঠিত।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, আমরা জানি, পৃথিবীর প্রায় প্রত্যেকটি উচ্চ আদালতই নিজ নিজ দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টও তার ব্যতিক্রম নয়। এর ইমারতগুলো কেবল বিচারালয়ের চিরায়ত পবিত্রতা ও ভাবগম্ভীর্যের প্রতীকই নয়, সেগুলোর প্রতিটি ইট-কাঠ-পাথরের সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে অসংখ্য আইনি এবং সাংবিধানিক ইতিহাস। বর্তমানে তিনটি ভবন হতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তার মধ্যে পুরাতন হাইকোর্ট ভবন এবং প্রধান ভবনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও নান্দনিক মূল্য অপরিসীম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বদান্যতায় নতুন স্থাপিত ১২তলা ‘‘বিজয়-৭১’’ ভবনটিও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রথাসিদ্ধ স্থাপত্য রীতি অনুসরণ করে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে সংকুলান হয়েছে ৩২টি এজলাস এবং ৫৬টি খাসকামরা। সুশোভন এই ভবনের ‘‘বিজয়-৭১’’ নামকরণ, মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা ও এগারো দফা অন্দোলন এবং ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পেরিয়ে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের জয়োৎসব অবধি ঘটনাবহুল তরঙ্গায়িত পথ চলায় আত্মাহুতি দানকারী শহীদদের অমর আত্মত্যাগের স্মরণে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।

তিনি বলেন, আজকের এই স্মরণীয় মুহূর্তে আপনার আন্তরিক সহযোগিতার কথা স্মরণ না করলে আমরা অকৃতজ্ঞ হবো। আপনার সরকার প্রথম বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে চারতলা এনেক্স কোর্ট ভবনটি নির্মাণ করে, যা ২০০১ সালে আপনি উদ্বোধন করেছেন। আপনার আন্তরিক প্রয়াসে ঢাকার কাকরাইলে একটি ২০তলা জাজেস টাওয়ার নির্মিত হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণের আবাসিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। আপনার উদার সহায়তায় দ্রুততার সাথে তৈরি হয়েছে সুরম্য বার কাউন্সিল ভবন। বিচার বিভাগের প্রতি আপনার হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা এবং মমত্ববোধ আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে চলেছে। আপনি গত ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বরে বিচারকবৃন্দের জাতীয় সম্মেলনে দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন, যা বিচারক, আইনজীবী এবং ছাত্রমহলে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করে। উক্ত আইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশে আইন শিক্ষার কার্যক্রমের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। আপনার সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে একটি ন্যাশনাল জুডিসিয়াল একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হতে চলেছে প্রত্যেক জেলাতে সুরম্য চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবন। তা ছাড়া, দেশে এবং বিদেশে বিচারকবৃন্দের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দিয়ে আপনি বিচার অঙ্গণে এক অনন্য নজীর স্থাপন করেছেন। আপনি আমার শপথ গ্রহণের দিনে আলোচনা প্রসঙ্গে আদালত প্রাঙ্গণে আগত বিচার প্রার্থী এবং স্বাক্ষীগণ বিশেষ করে মহিলা বিচার প্রার্থীদের বিশ্রাম এবং অন্যান্য সমস্যার কথা বিবেচনায় নিয়ে সাথে সাথে তাদের জন্য টয়লেটসহ অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণের কথা বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছিলেন যে, ‘‘এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিলো।’’ আপনার আশ্বস্থকরণ সকল বিচারপ্রার্থীদের মনে আপনার মানবপ্রীতির অনন্য উদাহরণের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। মামলা মোকদ্দমায় জর্জরিত মানুষ আদালত প্রাঙ্গণে কিছুক্ষণের জন্য হলেও নিরাপদ স্থল ও স্বস্থি খুঁজে পাবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে মাজার মসজিদটি ভেঙ্গে সুশোভিত ৪-তলা মসজিদ নির্মাণ প্রক্রিয়া-ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে আপ্লুত করেছে।

এ দেশের মানুষ করোনাকালীন সময়ে আপনার গৃহীত পদক্ষেপসমূহ বিশেষ করে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন তড়িৎ গতিতে প্রণয়ন এবং ভার্চুয়াল আদালত প্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োগের মাধ্যমে বিচারকার্য পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়ায়, বিচারকগণ, আইনজীবীগণ এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ আপনাকে চিরকাল স্মরণ করবে। আপনি শুনলে খুশি হবেন যে, মাননীয় বিচারপতিগণ গত দুই সপ্তাহ তাদের গ্রীষ্মকালীন ছুটি ভোগ না করে সবচেয়ে জটিল মোকদ্দমা শুনানি করছেন এবং গতকাল পর্যন্ত ৩২টি কেসের রায়ও হয়ে গিয়েছে। প্রত্যেক জেলায় মোকদ্দমা বিশেষ করে পুরাতন মোকদ্দমা নিষ্পত্তির জন্য মনিটরিং সেল গঠন করে মোকদ্দমা মনিটর করা হচ্ছে। ফলে মোকদ্দমা নিষ্পত্তির গতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন প্রয়োজন আইনজীবীদের পরিপূর্ণ সহযোগিতা। সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগে বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধিও খুবই প্রয়োজন।

বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, আদালতে প্রাণের বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে বাংলায় রায় দেয়ার পরিমাণ বেড়েছে। এ ছাড়া আপনার সরকারের সহযোগিতায় ভারত থেকে আনা ‘আমার ভাষা’ নামক অনুবাদ সফটওয়্যার এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ইংরেজি রায়সমূহ সাধারণ মানুষের বোঝার জন্য বাংলায় অনুবাদ করে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে নিয়মিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। একই সাথে ২২৪৩ কোটি টাকা ব্যায়ে ই-জুডিসিয়ারী প্রকল্প বাস্তবায়ন সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। আজকের পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থার যুগসন্ধিক্ষণে এই ই-জুডিসিয়ারী প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তথ্য প্রযুক্তির হাত ধরে বিচার বিভাগীয় নানান ধরণের সেবার স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উপযোগিতা নিশ্চয়ই নতুন আশায় আমাদের বাঁচতে শেখাবে।

প্রধান বিচারপতি বলেন, অত্যচারী শাসকশ্রেণীর নিপীড়নে জর্জরিত জনতার সাম্য, গণতন্ত্র তথা ন্যায়বিচারের স্পৃহায় জেগে ওঠা উত্তাল আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম হয়েছিল আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের। মহান সংবিধানের চেতনা সমুন্নত রাখার সুদৃঢ় প্রত্যয়ে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার মানসে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ।

আজ বলতে গর্ব হয়, যে সকল মাননীয় বিচারপতি, বিজ্ঞ আইনজীবী ও গুণীজনের নিষ্ঠা, প্রয়াস ও পদস্পর্শে ঋদ্ধ হয়েছে এই আদালত প্রাঙ্গণ, তাদের অনেকে আইন অঙ্গনেই শুধু নয়, পুরো বাংলাদেশের ইতিহাস জুড়ে তাৎপর্যময় অবদানের মাধ্যমে সমুজ্জ্বল হয়ে আছেন। তাদের গড়ে যাওয়া দৃষ্টান্তের উপর ভর করে আজ প্রাণ পেয়েছে সুবিচারের এই সৌধ।

সম্মানিত বিচারকগণ নিয়েছেন সততা, সাহসিকতা ও সমবেদনার দীক্ষা। সেই সাথে সমর্থ হয়েছেন অগণন আলোচিত জনগুরুত্বপূর্ণ রায় প্রদানে। বিচারকগণ সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন তাদের সততা, মেধা ও শ্রম দিয়ে মামলার জট ছাড়িয়ে দুর্দশাগ্রস্থ বিচারপ্রার্থীদের আদালত প্রাঙ্গণ হতে যতদ্রুত সম্ভব বাড়ি ফিরাতে। আমি প্রত্যেক বিচারক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দেশ দিয়েছি সবার সাথে মানবিক আচরণ করতে। আদালত প্রাঙ্গনে মানুষের দুর্দশার সুযোগ নেওয়া কখনোই বরদাস্ত করা হবে না।

আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশের উচ্চতম আদালতের এই অপূর্ব স্থাপত্যরীতির ঐতিহ্য বহমান থাকবে যুগযুগান্তকাল। আমাদের মেধা, পরিশ্রম, সৃষ্টিশীলতা আর উদ্ভাবনী শক্তির স্পর্শে প্রিয় স্বদেশ হয়ে উঠুক আরও উজ্জ্বল, সমৃদ্ধ ও ঐশ্বর্যমন্ডিত এক ভূখন্ড। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সেই স্বপ্নপূরণে আজকের সূচিত কার্যক্রম বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে পৌঁছে দেবে নতুন এক মাইলফলকে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও আইন সচিব মো. গোলাম সারওয়ার। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এবং আইনজীবীরা।

সুপ্রিম কোর্টের এনেক্স ভবনের পশ্চিম পাশে ১৮ হাজার ১৩৪ বর্গমিটার জায়গায় নির্মিত হয়েছে ১২তলা ‘বিজয়-৭১ ভবন।’ এই ভবনে রয়েছে বিচারপতিদের জন্য ৫৬টি চেম্বার, ৩২টি এজলাস কক্ষ (কোর্ট রুম), আলাদা দুটি লিফট, আধুনিক জেনারেটর ও দোতলায় বিদ্যুতের সাব-স্টেশন। এ ছাড়া ভবনে ২০টি অফিসকক্ষ এবং সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দাফতরিক কক্ষ রয়েছে।

সারাবাংলা/কেআইএফ/একেএম