Thursday 09 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সক্ষমতা বাড়ছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩১ মার্চ ২০২২ ০৮:৩১
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতীকী ছবি

ঢাকা: সক্ষমতা বাড়ছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (বাপাবিবো)। আধুনিকায়ন হবে ২৩টি উপকেন্দ্র। এজন্য ‘বাপবিবোর বিদ্যমান ৩৩/১১ কেভি পোল মাউন্টেড উপকেন্দ্রের নবায়ন ও আধুনিকায়ন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। এরমধ্যে সরকারি নিজস্ব তহবিল থেকে ১৯২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, প্রকল্প সহায়তা (কেএফডব্লিউ) থেকে ৪৭৭ কোটি ৪০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা থেকে ৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ২ হাজার ৭৬০ কিলোমিটার বিদ্যমান ওভারহেড বিতরণ লাইনের রি-কন্ডাক্টরিং করা হবে। প্রকল্পের আওতাভুক্ত ২৩টি উপকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য, গুণগত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সারাবাংলাকে বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব পাওয়ার পর গত বছরের ১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা । ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো প্রতিপালন করায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাপবিবো দেশের সব জেলার (তিনটি পার্বত্য জেলা ছাড়া) গ্রামাঞ্চলের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে পল্লী এলাকাগুলো শিল্প ও বাণিজ্যের ব্যাপক প্রসারের ফলে শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহক সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির কারণে লোড দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদার জন্য বাপবিবোর বিদ্যমান পুরাতন ও জরাজীর্ণ বৈদ্যুতিক লাইন ও উপকেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে প্রকল্প এলাকার ২৩টি উপকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ভরযোগ্য, গুণগত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) সূত্র জানায়, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সিস্টেম লস হ্রাস করে একটি দক্ষ ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন কাঠামো তৈরির মাধ্যমে সকলের জন্য সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিতের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পরিকল্পনার এ লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম,এ,মান্নান সারাবাংলাকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রস্তাবিত ২৩টি উপকেন্দ্রের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করে প্রকল্প এলাকায় নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১৪টি জেলায় অবস্থিত মোট ১৫টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত ভৌগলিক এলাকায় বাস্তবায়িত হবে।

যেসব এলাকায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে সেগুলো হচ্ছে- ঢাকা জেলার দোহার, মানিকগঞ্জের হরিরামপুর, গাজিপুরের শ্রীপুর, নারায়নগঞ্জের আড়াই হাজার এবং নরসসিংদী সদর উপজেলা। এছাড়া টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি, মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগীবাড়ি, গজারিয়া উপজেলা। চট্টগ্রাম জেলার দাউদকান্দি, হোমনা উপজেলা। কুমিল্লা জেলার হাটহাজারি। ফেনী জেলার ফেনী সদও উপজেলা। নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। খুলনা জেলার খুলনা উপজেলা। যশোর জেলার শার্শা ও চৌগাছা। ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর এবং গৌরীপুর উপজেলা।

সারাবাংলা/জেজে/এনএস