কুষ্টিয়া: করোনার সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুই বছর পর সাধুর বাজার বসেছিল কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত লালন সাঁইজির আখড়াবাড়িতে। দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে দেশের বিভিন্নপ্রান্ত থেকে এসেছিলেন সাঁইজির লাখো ভক্ত-সাধুরা। তিন দিনব্যাপী চলা উৎসব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) রাতে। শুক্রবার পূর্ণসেবা গ্রহণের পর নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে শুরু করবেন বাউল ফকির ও সাধুরা।
আনুষ্ঠানিকভাবে বিশাল এই উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। এ উপলক্ষে লালন একাডেমির মূল মঞ্চে রাতের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও লালন একাডেমির সভাপতি মোহা. সাইদুল ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ, কুষ্টিয়া ১ আসনের সংসদ সদস্য আ. কা. ম. সরওয়ার জাহান বাদশা।
https://youtu.be/FPA5Ei-45dA
‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহের এই আধ্যাত্মিক বাণীকে সামনে রেখে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লালন স্মরণোৎসব।
https://youtu.be/hO4dJ1p61f8
উল্লেখ্য, বাউলদের খাঁটি করে গড়ে তুলতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার নিজ আখড়াবাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দৌলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক উপ-মহাদেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী এই আধ্যাত্মিক সাধকের মৃত্যুর পর প্রথমে তার অনুসারীরা পরে লালন একাডেমি ও জেলা প্রশাসন এই লালন স্মরণোৎসব পালন করে আসছে।