Wednesday 08 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নৃত্যগুরু বিরজু মহারাজের মৃত্যু

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
১৭ জানুয়ারি ২০২২ ১০:২৪ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২২ ১২:৪৯

কিংবদন্তী নৃত্যশিল্পী বিরজু মহারাজের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৬ জানুয়ারি) রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চিরবিদায় নিয়েছেন কত্থক নৃত্যের মহারাজা। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

পরিবার বলছে, দিল্লির বাড়িতে নাতির সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরজু মহারাজ। দ্রুত দিল্লির সাকেত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।

বেশ কিছুদিন ধরেই কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পী। তার নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হচ্ছিল।

কলকাতা থেকে প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকা লিখছে, একাধারে নাচ, তবলা এবং কণ্ঠসঙ্গীতে সমান পারদর্শী ছিলেন বিরজু। ছবিও আঁকতেন।

১৯৩৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন বিরজু মহারাজ। বাবা পতি অচ্ছন মহারাজের কাছে ‘তেহাই’ আর ‘টুকরা’ আবৃত্তি দিয়ে শুরু; আট বছর বয়সেই নাচ, গান আর বাদনে তুখোড় হয়ে ওঠেন। নয় বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে ছন্দপতন। নিরুপায় হয়ে ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে হলেও সংগীত আর নৃত্য সাধনা থেকে একচুল বিচ্যুত হননি তিনি। শৈশবে তিনি পরিচিত ছিলেন দুঃখহরণ নাথ নামে।

বিজ্ঞাপন

কিশোর বয়সে বিরজু হয়ে ওঠেন নৃত্যগুরু। প্রথমে সংগীতভারতী, পরে ভারতীয় কলাকেন্দ্র, কত্থককেন্দ্র ও নিজের প্রতিষ্ঠিত কলাশ্রমে তালিম দিয়েছেন ৪৬ বছর বয়সে পদ্মবিভূষণ পাওয়া এ কিংবদন্তী। নিজস্ব শিল্পরীতিতে বিশ্ব নৃত্যান্দোলনের মূলধারায় নিজেকে অনন‌্য অবস্থানে নিয়ে যাওয়া বিরজু মহারাজ কত্থকের একাধিক বিন্যাসপর্ব নির্মাণ করেছেন।

ভারতীয় পুরাণ, ইতিহাস ও ঐতিহ্যনির্ভর ১৭টি নৃত্যনাট্য নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। ঠুমরি, দাদরা, ভজন, গজল গায়ক হিসেবেও কুড়িয়েছেন খ্যাতি। আবার সেতার, সরোদ, বেহালা, সারেঙ্গি, তবলাসহ একাধিক যন্ত্রবাদনে তিনি পারদর্শী। তিনি একাধারে কবি, লেখক।

১৯৭৭ সালে সত্যজিৎ রায়ের ‘সতরঞ্জ কি খিলাড়ি’ চলচ্চিত্রে দুটো নৃত্যের পরিচালক ছিলেন বিরজু মহারাজ। ‘দে আশকিয়া’, ‘দিল তো পাগল হ্যায়’, ‘গাদ্দার’, ‘দেবদাস’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’র মতো ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের নৃত্যপরিচালকও তিনি। ‘বাজিরাও মাস্তানি’ চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৬ সালে ‘শ্রেষ্ঠ কোরিওগ্রাফার’ হিসেবে ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

পেয়েছেন সংগীত ও নাটক আকাদেমি অ্যাওয়ার্ড, কালিদাস সম্মাননা, নৃত্যচূড়ামণি পুরস্কারসহ আরও অসংখ্য পদক ও পুরস্কার। বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, খাইরাগারাহ বিশ্ববিদ্যালয় তাকে দিয়েছে সন্মানসূচক ডিগ্রি।

সারাবাংলা/একেএম
বিজ্ঞাপন

আরো