ঢাকা: দেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য আজও উদঘাটিত হয়নি। ফলে সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তা ২৫ বছরেও অজানা রয়ে গেছে।
মামলার সর্বশেষ তদন্ত সংস্থা পিবিআই বলছে, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে তার মায়ের দাবি এটি হত্যাকাণ্ড।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান সালমান শাহ। তার মৃত্যুতে রাজধানীর রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন সালমান শাহ’র প্রয়াত বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। কিন্তু মৃত্যুর এক বছর না যেতেই ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে আদালতে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করার আবেদন জানান। ফলে সালমান শাহর মৃত্যু রহস্য আকার ধারণ করে।
সেই থেকে সালমান ভক্তদের মনে আজও রহস্য রয়ে গেছে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল।
বর্তমানে মামলাটিতে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম। পিবিআই’র দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটির ওপর নারাজি দিবেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। কিন্তু সালমান শাহর মা লন্ডনে থাকায় নারাজি দাখিলে সময়ের আবেদন করেন তার পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহমেদ। আদালত সময় আবেদন মঞ্জুর করে শুনানির জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর নতুন তারিখ ধার্য করেন।
মামলাটিতে প্রথমে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে ওই প্রতিবেদন গৃহীত হয়। কিন্তু সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী রিভিশন মামলা দায়ের করেন। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠায় আদালত। প্রায় ১৫ বছরে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে ছিল।
২০১৪ সালের ৩ আগস্ট ঢাকার সিএমএম আদালতের বিচারক বিকাশ কুমার সাহার কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। এ প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করা হয়। একই বছরের ২১ ডিসেম্বর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী ছেলের মৃত্যুতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেবেন বলে আবেদন করেন।
২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি নীলা চৌধুরী ঢাকা মহানগর হাকিম জাহাঙ্গীর হোসেনের আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের নারাজির আবেদন দাখিল করেন। নারাজি আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আজিজ মোহাম্মদ ভাই, রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ, নজরুল শেখ সামিরা হক, লতিফা হক লুসি, ডেভিড, আশরাফুল হক ডন, রাবেয়া সুলতানা রুবি, মোস্তাক ওয়াইদ, আবুল হোসেন খান ও মনোয়ারা বেগম এ ১১ জন সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
মামলাটিতে র্যাবকে তদন্ত ভার দেওয়ার আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি রিভিশন মামলা করেন। ২০১৬ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন ঢাকার বিশেষ জজ-৬ এর বিচারক ইমরুল কায়েস রাষ্ট্রপক্ষের রিভিশনটি মঞ্জুর করেন এবং র্যাব মামলাটি আর তদন্ত করতে পারবে না বলে আদেশ দেন। এরপর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ওপর তদন্তের ভার পরে।
এ ব্যাপারে সালমান শাহর মামা আলমগীর কুমকুম জানান, ‘বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিলাম। আল্লাহ সবকিছু জানেন। তার কাছে আমরা বিচার পাবো। সম্প্রতি সবাই পরীমণিকে নিয়ে ব্যস্ত। পরীমণি কোনো অপরাধ করেনি! সেখানে সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে। অথচ আমরা ২৫ বছরেও বিচার পেলাম না।’
সালমান শাহ পক্ষে আইনজীবী ফারুক আহমেদ জানান, সালমান শাহ হত্যা মামলায় পিবিআই যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে আমরা এর বিরুদ্ধে নারাজি দাখিল করবো। সালমান শাহর মা মামলার বাদী নীলা চৌধুরী লন্ডনে আছেন। তিনি দেশে ফিরে আসলেই আমরা নারাজি দাখিল করবো। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে পিবিআই সালমান শাহর মায়ের সাথে যোগাযাগ করেনি। র্যাব বা অন্য কোনো সংস্থাকে দিয়ে যেন পুনরায় তদন্ত করা হয়। এটা না হলে আমরা উচ্চ আদালতে যাবো। আশা করি একটা ভালো সিদ্ধান্ত আসবে।