ঢাকা: মৃত্যু ব্যক্তির অস্থাবর সম্পত্তি ওয়ারিশগণ সাকসেশন আইনে মামলার মাধ্যমে অর্জন করতে পারবেন। শনিবার (১৫ জুলাই) সারাবাংলার আইন বিষয়ক নিয়মিত আয়োজন ‘সারাবাংলা লিগ্যাল চেম্বারস’-এ যুক্ত হয়ে আইনজীবীরা এ কথা বলেন। এ পর্বে আলোচনার বিষয় ছিল ‘উত্তরাধিকার সনদপত্র এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট কেনো প্রয়োজন?’ বরাবরের মতোই অনুষ্ঠানটি পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ইফ্ফাত গিয়াস আরেফিন।
অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ্রী প্রাণনাথ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছাবিবা রনি বেগম।
কখন আমাদের উত্তরাধিকার সনদপত্র দরকার সেই বিষয়ে অ্যাডভোকেট শ্রী প্রাণ নাথ জানান, উত্তরাধিকার সার্টিফিকেটে দুইটা বিষয় থাকে। একটা হচ্ছে উত্তরাধিকার সনদপত্র অন্য সাকসেশন সার্টিফিকেট। সনদপত্র তখন হয়, যখন সেই ব্যক্তিটা মারা যায়। তিনি মারা যাওয়ার পরে এলাকায় যদি ইউনিয়ন কাউন্সিলর থাকে, তিনি উত্তরাধিকারসূত্রে সনদপত্র দেন তা ওয়ারিশের সার্টিফিকেট। সেই ওয়ারিশের সার্টিফিকেটে থাকে তিনি মারা যাওয়ার সময় কাকে কাকে রেখে গেছেন। এখনকার সময়ে একটা ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে কাউন্সিলর কতজন বৈধ ওয়ারিশ আছেন সেই বিষয়ে উত্তরাধিকার সার্টিফিকেট দেন। তবে যদি আপনাকে সাকসেশন সার্টিফিকেট নিতে হয়, তাহলে কোর্টে গিয়ে নিতে হবে।
যদি সাকসেশন সার্টিফিকেট নিতে চান তাহলে তিনটা বিষয়ে নজর দিতে হবে, যিনি মারা গেলেন তার ডেথ সাটিফিকেট লাগবে। আরেকটি হচ্ছে উত্তরাধিকার সনদপত্র। সর্বশেষটা হচ্ছে উনি যখন মারা গেলেন, যদি কোনো ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট থাকে তার অরজিনাল স্টেটমেন্ট লাগবে। আর যদি ব্যাংককে স্টেটমেন্ট না থাকে, শেয়ার থাকলে সেটার সাটিফিকেট দিলেও হবে। যে কোর্টে সাকসেশনের মামলা করবেন। এগুলো জমা দেওয়ার পরে কোর্ট একটা সমন দেন যারা ওয়ারিশ আছে তাদের কাছে। ওয়ারিশদের অন্য কোনো বক্তব্য আছে কি? যদি বক্তব্য না থাকে, কোর্ট সাক্ষ্যগ্রহণ করবেন।
এরপর ওই জমা দেওয়া কাগজপত্র দেখে সাকসেশন সার্টিফিকেট দেন। তবে এখানে একটা বিষয় আছে, যদি সাকসেশনে কোনো ব্যক্তির ১ লাখ টাকার কম থাকে, তাহলে তাকে কোনো কোর্ট ফি প্রদান করতে হবে না। আর যদি ১ লাখ টাকার ওপরে ব্যাংককে জমা থাকে তাহলে তাকে ২% হারে কোর্ট ফি জমা দিতে হবে। মৃত্যু ব্যক্তি যদি সরকারি চাকরিজীবী হন, তার টাকা ওয়ারিশ পেতে হলে সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগবে।
অ্যাডভোকেট ছাবিবা রনি বেগম বলেন, ‘যখন কোনো ব্যক্তি মারা যান, তার যে অস্থাবর সম্পত্তিগুলো থাকে ওয়ারিশদের মধ্যে দেখা যায় বিরোধ সৃষ্টি হতে। অনেক সময় দেখা যায় ব্যাংককে নমিনি করা আছে, তারপরেও ব্যাংক সাকসেশন সার্টিফিকেট চাই। ইদানিং হাইকোর্টে একটি রায় হয়েছে, নমিনি থাকলে আর সাকসেশন সার্টিফিকেট চাইতে পারবে না। আর যখন নমিনির নাম দেওয়া থাকে না তখন সাকসেশন সার্টিফিকেট চাওয়া হয়। রেখে যাওয়া অস্থবর সম্পত্তি নিয়ে যখন ওয়ারিশদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়, তখন বৈধ ওয়ারিশদের নামে সাকসেশন চাওয়া হয়।’
‘১৯২৫ সালের উত্তরাধিকার আইন ৩৭২ ধারা মোতাবেক সাকসেশনের জন্য কোর্টে মামলাটি দায়ের করতে হয়। বৈধ ওয়ারিশদের মধ্যে কে কত প্রাপ্ত অংশ সেটাও আমরা এই দরখাস্তে উল্লেখ করে দেয়। তবে যিনি মারা গেছে অবশ্যই তার একটা ডেথ সাটিফিকেট লাগবে। যারা ওয়ারিশ হবেন তারা অবশ্যই মৃত্যু ব্যক্তির কোথায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, শেয়ার আছে, সেটির কাগজপত্রসহ এনআইডি জমা দিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে সাকসেশন সার্টিফিকেট লাগবে অস্থবর সম্পত্তি ভোগের জন্য।’
আইনজীবীরা আরও বলেন, প্রত্যেকে জেলা জজকে সাকসেশন মামলার সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যেখানে ওই ব্যক্তি মারা যাবেন সেখানে, অথবা যেখানে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট করা হয়েছে সেখানকার জেলা জজের কাছে মামলাটি দায়ের করতে পারবেন। তবে ভিকটিমের অবস্থান যদি দুই জেলায় হয়, তাহলে উনি যে কোনো একটিতে মামলা করতে পারবেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শ্রী প্রাণ নাথ আরও বলেন, ‘ওয়ারিশ সনদ এবং সাকসেশন সার্টিফিকেট দুইটা দুই জিনিস। ওয়ারিশের সনদ অথ্যাৎ ওয়ারিশ কারা কারা হবেন, সেটা আসলে নির্ধারণ করেন ওই কাউন্সিলর, এলাকার চেয়ারম্যান। আর সাকসেশন সার্টিফিকেট নিতে চাইলে তিনটা জিনিস প্রয়োজন। এখানে কাউন্সিলর, এলাকার চেয়ারম্যানের কোনো এখতিয়ার নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাকসেশন সার্টিফিকেট নিতে হলে, তিন জিনিস সংগ্রহ করতে হবে, ডেথ সাটিফিকেট, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিয়ে আইনজীবীর কাছে যেতে হবে। এরপর আইনজীবী মামলা করে সার্টিফিকেট পেতে পারেন, এতে হয়রানির কিছু নেই।’