Friday 03 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

‘বেতন-বোনাস নাই, চাকরির বাপ-মাও নাই’

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৫ জুন ২০২১ ২২:০৯ | আপডেট: ৬ জুন ২০২১ ০১:৫৮

ঢাকা: তৃতীয় পক্ষ বা ঠিকাদারি কোম্পানি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ দিলেও নিয়মিত বেতন-বোনাস দেয় না। আবার যখন-তখন চাকরিচ্যুতিও করা হয়। সরকারিভাবে বেতন দেওয়া হলেও তার প্রায় অর্ধেক বেতন নিতে হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। নারী কর্মচারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি একদিনের জন্যও দেওয়া হয় না। কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে পরে এসে দেখেন তার চাকরি নেই। ফলে এক পর্যায়ে কেউ কেউ বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে কাজ করে মাসের পর মাস বেতন না পেয়ে সম্প্রতি ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছেন রাজশাহীর মিলন নামের একজন। তাই আউটসোর্সিং বন্ধ করে সরকারিভাবে তাদের চাকরিতে বহালের দাবি জানিয়েছেন এই পদ্ধতিতে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীরা।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (৫ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মাহবুবুর রহমান আনিছ এ দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আউটসোর্সিং কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় আট লাখ। বাংলাদেশ ব্যাংকেই রয়েছে আড়াই হাজারের মতো কর্মচারী। সরকারি প্রতিটি অফিসে এসব কর্মচারী ঘর মোছা থেকে শুরু করে কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত কাজও করে দেয়। তাদের একদিনের জন্য ছুটি দেওয়া হয় না। অথচ করোনাকালীন সবাই দিন ভাগ করে অফিস করেছেন। এতে কর্মচারীদের প্রায় দুই হাজার জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা বলতে পারছি না। করোনায় আক্রান্ত হোক আর মৃত্যুবরণ করুক না কেন তাদের কেউ সাহায্য সহযোগিতা করেনি। বরং গত ঈদের অনেকে স্ত্রী, ছেলে-মেয়ের জন্য কাপড়ও কিনতে পারেননি। বোনাস তো পরের কথা, বেতনটাও দেওয়া হয়নি।’

তিনি আউটসোর্সিং পন্থার কয়েকটি নেতিবাচক দিক তুলে ধরে বলেন, ‘ঝুঁকি ভাতা ও প্রণোদনা থেকে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা বঞ্চিত হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বেতন বিল পরিশোধ করার কথা বললেও ঠিকাদাররা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না দিয়ে হাতে হাতে টাকা দেয়। আউটসোর্সিং কর্মরত গাড়িচালকদের সর্বোচ্চ ১০০ ঘণ্টা অভার টাইম দেওয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত কাজ করেও তারা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়। হাসপাতালগুলাতে কখনো কখনো প্রশাসনিক অনুমোদন না থাকায় ও নানারকম জটিলতার কারণে কয়েক মাস বিনা বেতনেও কাজ করতে হয় তাদের। জেলা-উপজেলায় ঠিকাদারের হাত থেকে বেতন নিতে হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত বেতন না দিয়ে মনগড়া বেতন দেয় এবং এর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ও থাকে না। এছাড়া জুন মাসে রিনিউ করার জন্য মোটা অংকের টাকা না দিলে তাকে চাকুরিচ্যুত করা হয়।’

একই সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা সরকারি চাকরিজীবী ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল মান্নান বিশ্বাস বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে ঠিকাদারের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পন্থায় যারা ঢোকে তাদের সঙ্গে কৃতদাসের চেয়েও খারাপ ব্যবহার করা হয়। তাদের বেতন ভাগ-বাটোয়ারা করে ঠিকাদার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা নিয়ে নিচ্ছেন। তারা কোনো জায়গায় বেতন পাচ্ছেন তিন হাজার, কোনো জায়গায় ছয় হাজার টাকা। আবার কোনো জায়গায় ১০ হাজার, কোনো জায়গায় ১২ হাজার টাকা। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন বেতনই দিচ্ছে না। এ নিয়ে কিছু বললেই অফিস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।’

তিনি কয়েকটি দাবি তুলে ধরে সারাদেশের ১০-২০তম গ্রেডের সকল সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য দূর করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বর্তমান বাজার অনুযায়ী বেতন বৃদ্ধি ও নবম পে-স্কেলের মাধ্যমে সঠিক বেতন নির্ধারণের জোরালো আবেদন জানান তিনি। এছাড়া সারাদেশের সকল গাড়িচালকসহ ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত সবাইকে ঝুঁকিভাতা প্রদানের দাবি জানান। পাশাপাশি সকল ১০-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের সিলেকসন গ্রেড, মর্গ ভাতা, টিফিন ও যাতায়াত ভাতা বৃদ্ধি এবং বিনা সুদে বাড়ি করার জন্য লোন দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান আব্দুল মান্নান বিশ্বাস।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম
বিজ্ঞাপন

আরো