চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি উন্মুক্ত মন্দিরের ভেতরে গরুর হাড় পাওয়া নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে দুর্বৃত্তরা মন্দিরে গরুর হাড় ফেলে রেখে গেছে। তবে পুলিশ বলছে, মন্দিরটি একেবারে উন্মুক্ত থাকায় পশু-পাখিও সেখানে হাড় ফেলতে পারে।
সাতকানিয়ার ধর্মপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধর্মপুর গ্রামে সড়কের পাশে সেবাখোলা নামে পরিচিত একটি মগদেশ্বরী মন্দিরে এই ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা পুলিশকে জানায় বলে জানিয়েছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন।
ওসি আনোয়ার সারাবাংলাকে বলেন, ‘রাস্তার পাশে একটি মন্দির, পাকা বেদী আছে। কিন্তু আশপাশে কোনো ঘেরা নেই, একেবারে উন্মুক্ত। এলাকাটা খুবই নির্জন। সেখানে গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন কয়েকটি গরুর হাড্ডি, দাঁতের অংশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। আমরা সাথে সাথেই এলাকায় যাই। তিন দফা আমি গিয়েছি, আমাদের সিনিয়র অফিসাররাও গিয়েছেন। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’
‘আমরা আজ (রোববার) দুপুরে গিয়েও দেখেছি, মন্দিরের আশপাশে কয়েকটা কুকুর বিচরণ করছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা যারা আছেন এলাকার, তাদের ডেকে এনে দেখিয়েছি। আমরা বলছি না কুকুরই করেছে। আমাদের সমাজে তো খারাপ মানুষও আছে। তারাও করতে পারে। অথবা পশুপাখিও ফেলতে পারে। তবে মন্দিরটাকে একেবারে উন্মুক্ত না রেখে বাঁশ দিয়ে হলেও ঘেরা দিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলাকার লোকজনকে বলেছি,’— বলেন ওসি।
এদিকে রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে যান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। সেখানে এলাকার লোকজন মিলে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। ‘জাগো হিন্দু পরিষদ’ নামে একটি সংগঠন এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে সাতকানিয়া থানার সামনে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে।
ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘একটি ঘটনা ঘটেছে, স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় একটু উত্তেজনা আছে। তবে আমি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং পূজা পরিষদের নেতাদের বুঝিয়ে বলেছি, এই ঘটনার সঙ্গে যে বা যারাই জড়িত, তাদের চিহ্নিত করবই। ঘটনার রহস্য আমরা উদঘাটন করবই। উনারা আশ্বস্ত হয়েছেন।’