Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পেকুয়ায় বেড়েছে চোরের উপদ্রব

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১০:০১

ছবি: সংগৃহীত।

কক্সবাজার: কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নে চোরের উপদ্রব আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাটিতে প্রায় প্রতিদিনই চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সম্প্রতি বারবাকিয়া ইউনিয়নের ভারুয়াখালী এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, মোবাইল ফোন থেকে শুরু করে বসতবাড়ির রান্নার তরকারি চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় প্রতিনিয়ত চুরির ঘটনা ঘটছে। এটা চেয়ারম্যান-মেম্বার সবার জানা থাকলেও তারা কোনো কিছুই করতে পারছেন না। চোর চক্রটি বারবার জেলে গেলেও কয়েকদিন পর আবার বের হয়ে যায়। কারাগার থেকে বের হওয়ার পর আবারও তাণ্ডব শুরু করে। এখানে চেয়ারম্যান-মেম্বারের চেয়ে চোরচক্র শক্তিশালী।

বিজ্ঞাপন

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারুয়াখালী এলাকার এক যুবক জানান, গত ৮ জুন রাতে তার বাড়ির গ্যারেজ থেকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরি হয়। এর পরের রাতেই তার বাবার মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। কিছুদিন আগে তার বাড়ি থেকে আরেকটি অটোরিকশা চুরি হয়। সে সময় এলাকার যুবকেরা রাতে পাহারার ব্যবস্থা করায় চুরির প্রকোপ কিছুটা কমেছিল। তবে পাহারা বন্ধ হতেই আবারও চোরের উপদ্রব শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, এলাকায় এমন কোনো বাড়ি নেই যেখানে চুরি হয়নি। চোর কারা তা সবারই জানা, তারপরও কেউ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছে না। সবাই চোর চক্রের ভয়ে নীরব থাকে। কারণ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। আমরা তাদের কাছে এক প্রকার অসহায়।

একই এলাকার আরেক বাসিন্দা (নারী) আক্ষেপ করে জানান, তার দিনমজুর ছেলে অনেক কষ্ট করে একটি মোবাইল ফোন কিনেছিল। রাতের অন্ধকারে চোরেরা সেটিও চুরি করে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে তার বাড়ির পাশের প্রবাসীর বাড়ির রান্নাঘরে ঢুকে তরকারিসহ প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র নিয়ে গেছে। এ সময় ওই নারীর পাশে থাকা তার মা বলে উঠেন, এক কথায় বলতে গেলে আমরা ভালো নেই।

এদিকে চুরির এমন ভয়াবহ রূপ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। বারবাকিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পাহাড়িয়াখালী এলাকার বাসিন্দা লোকমান হাকিম ফেসবুকে লিখেছেন, এলাকায় যে হারে চুরি বাড়ছে, তা নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কোনো মাথাব্যথা নেই। ইউপি সদস্য কিংবা চেয়ারম্যান কেউই কোনো জোরালো সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বারবাকিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমার এলাকায় প্রতিদিন চুরির ঘটনা ঘটছে। এটা নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি না, তা কিন্তু না। আমরা চোর ধরতে পুলিশকে সহযোগিতা করছি, তারা ধরে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পর চোর চক্রটি জেল থেকে বের হয়, আবারও চুরি করে। এসব ঘটনায় আমরা এক প্রকার চোর পুলিশ খেলায় মেতে আছি। কিন্তু কোনো প্রতিকারই করতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রশাসনের জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আগে জানা ছিল না। আপনার মাধ্যমে জানলাম। এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগও পাইনি। ওই এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার মাদকসেবী, কিশোর গ্যাং এবং চুরির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত বা জামিনে থাকা আসামিদের বর্তমান কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারি রাখা হচ্ছে। পুরো পেকুয়া উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাত্রিকালীন পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর