গাইবান্ধা: গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (২৯ জুন) সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষের সময় জুনদহ বাজারে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানায়, পূর্বে মীমাংসিত একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডলের দুই ভাগনে কাকন ও নিয়ন বরিশাল ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের কর্মী এবং গাইবান্ধা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের ছাত্র আল আমিনকে মারধর করেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মন্ডল, বরিশাল ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সভাপতি মিল্লাত সরকার মিলন, পলাশবাড়ী পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শামিম রেজা, ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহীন, সাধারণ সম্পাদক তাবিজ, জবা ডাবলু, রাকিবুল হাসান মনা, জাকিরসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৩ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে আব্দুস সামাদ মন্ডলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অপরদিকে আশরাফুল ইসলাম, মিল্লাত সরকার মিলন ও শামিম রেজা পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সংঘর্ষের পর জুনদহ বাজারে উভয় পক্ষের কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে পুরো জুনদহ এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপরতা চালাচ্ছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে পলাশবাড়ী থানার ওসি সারোয়ার আলম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’