ঢাকা: রাজধানী ঢাকা দীর্ঘ সময় ধরেই বায়ুদূষণের কবলে রয়েছে। সবশেষ বায়ুর মান সূচক অনুযায়ী, শহরটির বাতাস আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে অবস্থান করছে।
বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্যমতে, সকালে ঢাকার স্কোর ছিল ১১৫। এই স্কোর অনুযায়ী বাতাসের মান ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। আজ সকালে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা নবম অবস্থানে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শহরের বায়ুদূষণের পেছনে প্রধানত দায়ী যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলাবালি, ইটভাটা এবং শিল্পকারখানার দূষণ। তারা মনে করেন, এসব উৎস থেকে দূষণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বায়ুর মানে টেকসই উন্নতি সম্ভব নয়। তাই সাময়িক উন্নতির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দূষণ নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে জরুরি।
এদিকে আজ একই সময়ে ১৭১ স্কোর নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। এ ছাড়া ১৬৭ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর কিনশাসা। তালিকায় পরবর্তী স্থানগুলোতে রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, উগান্ডার কাম্পালা এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ পর্যন্ত বায়ুর মান ভালো হিসেবে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ স্কোরকে মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে অস্বাস্থ্যকর বায়ু বলা হয়। এ ছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে খুব অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোরকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।
ঢাকার বাতাসের এই মান শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সাময়িক সময়ের জন্য হলেও সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখা স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।