।। স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট ।।
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দর ও ডিপো থেকে বের হওয়ার পর কাভার্ড ভ্যান থেকে আমদানি পণ্য চোর চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ৭টি কভার্ড ভ্যান থেকে চুরি করা ১৫৫ বস্তা রেজিন (দানাদার রাসায়নিক পদার্থ) উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৬ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত গত দুইদিনের অভিযানে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার ১০ জন হল- মো. সালাউদ্দিন (২২), আব্দুল মান্নান (৩৪), মো. রাশেদ (৩৬), সেন্টু হাওলাদার (২৭), মো. নজরুল ইসলাম (২৯), মো. আবু সুফিয়ান রুবেল (২৬), মো. ফারুক (৩৫), মো. আলমগীর লিটন (৩৫), পংকজ দাশ (৫১) এবং সজল দেব(৪১)।
অভিযানে থাকা নগর গোয়েন্দা পুলিশের বন্দর জোনের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হোসাইন সারাবাংলাকে বলেন, ‘আমদানি-রফতানির কনটেইনার থেকে কাভার্ড ভ্যানে পণ্য ওঠানোর পর সেখান থেকে চুরি করে এমন কয়েকটি চক্র আছে। আমরা একটি চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেফতার করেছি। এই চক্রের সদস্যরা সাধারণত বস্তাভর্তি যেসব পণ্য থাকে সেগুলো চুরি করে। এর আগে আমরা আরও কয়েকটি চক্রের বেশ কয়েকজনকে সদস্যকে গ্রেফতার করেছিলাম।’
নগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৫ জানুয়ারি নগরীর খাতুনগঞ্জের নবী সুপার মার্কেটের ‘মেসার্স গুডলাক ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড ট্রেডিং এজেন্সি’র ব্যবস্থাপক বাদি হয়ে পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এতে অভিযোগ করা হয়- গত ১ জানুয়ারি রাফি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের আমদানি করা ৩ হাজার ৫৯৪ ব্যাগ সিবিসি রেজিন তাইওয়ান হোয়াইট ৭টি কাভার্ড ভ্যানে করে নগরীর বিমানবন্দর সড়কের ভারটেক্স ডিপো থেকে আমদানিকারকের কারখানায় পাঠানো হচ্ছিল। কভার্ড ভ্যানগুলো তাদের প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে ২টি কভার্ড ভ্যানে ৭৫ ব্যাগ ও ৮০ ব্যাগ পণ্য পাওয়া যায়নি। এসব গাড়ির চালকদেরও খোঁজ মিলছে না।
এসআই মোজাম্মেল জানান, মামলা দায়েরের পর প্রথমে গাড়িচালক সালাহউদ্দিন ও আব্দুল মান্নানকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আরও ৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে নগরীর বাকলিয়া থানার চাক্তাই ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন জননী পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিশ ফিডের গুদাম থেকে ১৫৫ বস্তা চোরাই মালামাল উদ্ধার করা হয়।
‘এই চোর সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে কয়েকজন আছেন। তাদের সঙ্গে চোরাই পণ্য ক্রেতাদের যোগাযোগ আছে। নির্দিষ্ট ক্রেতারাই সাধারণত এসব পণ্য কেনেন’, বলেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।
সারাবাংলা/আরডি/এমও