Monday 24 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ওসমান হাদি হত্যা মামলা: অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের জামিন আবেদন খারিজ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:২৫

ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামি চট্টগ্রামের অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি ও চট্টগ্রামের অস্ত্র ব্যবসায়ী মো. মাজেদুল হক হেলাল-এর জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি কেএম জাহিদ সারওয়ার-এর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আসামির পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিন্টু কুমার মণ্ডল।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১৮ এপ্রিল ওসমান হাদি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন আসামি মাজেদুল হক হেলাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান-এর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

এর আগে চট্টগ্রামের চকবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর ১৫ এপ্রিল তাকে আদালতে হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিজ্ঞাপন

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, ঘটনাস্থলে উদ্ধার হওয়া গুলি ও কার্তুজ ওই পিস্তল থেকেই ছোঁড়া হয়েছিল।

তদন্তে আরও জানা যায়, মাইক্রো-অ্যানালাইসিসের মাধ্যমে পিস্তলটির সিরিয়াল নম্বর শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরে অনুসন্ধানে দেখা যায়, অস্ত্রটি ২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর ঢাকার এমআইএইচ আর্মস কোম্পানি ইসলাম উদ্দিন আহমেদ অ্যান্ড সন্সের কাছে বিক্রি করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি সেটি চট্টগ্রামের হামিদুল হক আর্মস অ্যান্ড কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে।

তদন্তে উঠে আসে, ওই প্রতিষ্ঠানের মালিক মাজেদুল হক হেলাল এবং তার অস্ত্র ব্যবসার লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর আর নবায়ন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিন রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হলে হত্যাচেষ্টা মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও মামলার বাদী তাতে নারাজি আবেদন করেন। পরে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য মামলাটি অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) দায়িত্ব দেন।

সারাবাংলা/টিএম/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো