খুলনা: পবিত্র ওমরাহ পালনের স্বপ্নে দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দেখে সেই জমানো অর্থেই ৫৬ বছরের পুরোনো কাদামাটির রাস্তা সংস্কার করলেন স্বামী হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। নিজের অর্থায়নে ১৫০ ফুট সড়কে ইটের সোলিং করে এলাকায় মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাফপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কেয়াখালী গ্রামের অবহেলিত ওই রাস্তাটিতে গত ২০ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সংস্কারকাজ শেষ করেন হাফেজ ওয়াহিদুজ্জামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ৫৬ বছর পেরিয়ে গেলেও কেয়াখালী গ্রামের এই সড়কটিতে কখনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষা এলেই প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ সড়কটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে যেত। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ, রোগীসহ গ্রামের শত শত মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও স্থায়ী সমাধান না পাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই ভোগান্তি পোহাচ্ছিলেন গ্রামবাসী। তাদের এই দুর্দশা দেখে এগিয়ে আসেন হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান।
জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় করা অর্থের কথা জানালে তাঁর স্ত্রীও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবকে অগ্রাধিকার দেন। নিজের স্বপ্নের জন্য জমানো পুরো অর্থ স্বামীর হাতে তুলে দেন তিনি। পরে সেই অর্থ দিয়ে ইট ও বালু কিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়ে সড়কের সংস্কারকাজে নেমে পড়েন ওয়াহিদুজ্জামান।
নিজের অর্থায়নে রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘মানুষের সেবা করাও ইবাদতের একটি অংশ। আমার স্ত্রীর পবিত্র ওমরাহ পালনের প্রবল ইচ্ছে ছিল। কিন্তু গ্রামের শত শত মানুষের প্রতিদিনের এই চরম কষ্ট দেখে মনে হলো, আগে তাদের দুর্ভোগ দূর করা জরুরি। আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন বলেই স্ত্রীর জমানো টাকায় কাজটি শেষ করতে পেরেছি।’
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের কাদা-পানির দুর্ভোগ থেকে রাস্তাটি সংস্কারের পর তারা স্বস্তি পেয়েছেন। বিশেষ করে বর্ষাকালে শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচলে যে ভোগান্তি হতো, তা অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন তারা।
হাফেজ মো. ওয়াহিদুজ্জামানের মানবসেবার এটি প্রথম উদ্যোগ নয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনার ভয়াবহ সময়েও তিনি মানবতার সেবায় এগিয়ে এসেছিলেন। তার নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ ‘দাফন টিম’ খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করা প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মরদেহ দাফন ও সৎকারের কাজ করে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই সময়ে মানবিক এই উদ্যোগের জন্য তিনি সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।