Saturday 15 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

চিকিৎসকদের প্রতি আস্থার সংকট দূর না হলে বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে না: প্রধানমন্ত্রী

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:৩৫ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৬ ১৯:১১

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঢাকা: আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ নয় বরং উন্নত প্রযুক্তি, দক্ষ মানবসম্পদ, সুশাসন এবং সময়োপযোগী নীতির সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য সহজলভ্য, সাশ্রয়ী এবং মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালের ভবন-২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বিশ্বাস করেন, আজ ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট এই নতুন ভবন চালুর মাধ্যমে দেশের মানুষ আরও উন্নত স্নায়ুবিক চিকিৎসা সেবা পাবে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, আর সময়ের প্রয়োজনে আজ এই হাসপাতালটি আরও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে সম্প্রসারিত হলো। এই হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স ও হেলথ টেকনিশিয়ানসহ সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ।’

চিকিৎসা সেবা এবং চিকিৎসা পরিবেশ নির্বিঘ্ন করতে সকল দায়-দায়িত্ব চিকিৎসকের একক নয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন যে চিকিৎসক, ‘রোগী এবং রোগীর উদ্বিগ্ন স্বজন, এই তিনটি পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান এবং সহানুভূতির সম্পর্ক বজায় থাকা জরুরি। এই তিনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সম্মানের পরিবর্তে চিকিৎসকরা যদি নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেন কিংবা রোগী ও স্বজনরা যদি চিকিৎসকদের ওপর বিশ্বাস এবং মর্যাদার সম্পর্ক অনুভব না করেন, তবে যতই হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হোক না কেন, চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ করা যাবে না। উন্নত চিকিৎসা যদি শুধু শহরের বিত্তবান মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে সেটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক স্বাস্থ্য সেবা বলা যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দিতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।’

নিউরোলজিক্যাল বা স্নায়ুবিক জটিলতা যেমন স্ট্রোক, ইপিলেপসি বা খিঁচুনি, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া কিংবা মেরুদণ্ডের জটিল রোগ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশেও এ ধরনের বিশেষায়িত চিকিৎসার চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। নতুন এই ভবনের আধুনিক আইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক সুবিধা এবং বিশেষায়িত ওয়ার্ড কেবল রোগী ভর্তির ধারণক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং চিকিৎসা গবেষণা ও উচ্চতর শিক্ষার ক্ষেত্রেও এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।’ দেশের সাধারণ মানুষ যেন স্বল্প খরচে বিশ্বমানের নিউরোচিকিৎসা পেতে পারেন, সেই লক্ষ্য নিয়েই এই বর্ধিত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কেবল প্রযুক্তি থাকলেই একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নত হয় না জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, ‘এর সঙ্গে মানবিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রযুক্তি রোগ শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু রোগীর ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক কষ্ট বুঝে তাকে আশ্বস্ত করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের মানবিক আচরণের বিকল্প নেই। রোগীর প্রতি একজন চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহানুভূতিপূর্ণ আচরণ, মনোযোগ দিয়ে রোগীর কথা শোনা এবং সম্মানজনক আচরণ চিকিৎসার মান অনেক বাড়িয়ে দেয়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন রোগী যাতে যেকোনো চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করে রাজধানীতে আসতে না হয়, সেজন্য সরকার ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও কার্যকর রেফারেল সিস্টেম গড়ে তোলার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হচ্ছে।’

শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, সরকার শিশুদের জন্য নতুন শিক্ষা কারিকুলাম প্রণয়ন করছে এবং শিশু স্বাস্থ্যের উন্নয়নে খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং কুমিল্লা জেলায় একটি করে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল আগামী অক্টোবর মাসে একযোগে চালু করতে সক্ষম হবে। জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে এ যাবৎকালে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ দিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে যে ‘সুস্বাস্থ্যের বাংলাদেশ’ গড়া স্রেফ কোনো স্লোগান নয়, বরং একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে চিকিৎসার জন্য কাউকে দেশের বাইরে যেতে হবে না কিংবা অর্থাভাবে কেউ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর