ঢাকা: দেশে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নতুন করে সাতটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশের বেশ কিছু জেলায় নদ-নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার পাশাপাশি নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে তথ্য মিলেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সরকারের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নদীগুলোর কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা ও পানির সমতল পরিবর্তনের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানির সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী তিন দিনও এই নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর কিছু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এই নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদ-নদীর কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। এর পাশাপাশি বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্নফুলী, লিটল ফেনী ও নোয়াখালী খালসহ বিভিন্ন নদীতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজমান রয়েছে এবং আগামী একদিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে।