Thursday 16 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের নির্দেশ

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
১৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:৫২

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

ঢাকা: দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের বেসরকারি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য ১০ শতাংশ শয্যা বা বেড বাধ্যতামূলকভাবে সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ( ১৫ জুলাই ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে বক্তব্য দেওয়ার সময় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসার সুবিধার্থে সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু এনএসওয়ান পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করা হচ্ছে এবং আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে এক ধাক্কায় কমিয়ে মাত্র ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ১ লাখ ৬ হাজার ৬০০টি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট মজুত আছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে আরও ৫ লাখ কিট এই মজুতে যুক্ত হবে, যার পাশাপাশি ১ লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ জরুরি রিজার্ভ হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তথ্য দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রায় দেড় মাস আগেই বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন করা হয়েছে এবং সেখানে তাদের মোট শয্যার ১০ শতাংশ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য খালি রাখার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকারি নির্ধারিত রেটেই ডেঙ্গু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার ব্যাপারে পূর্ণ সম্মতি জ্ঞাপন করেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি যদি কোনো কারণে অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করে, তবে তা সামাল দিতে বিশেষ মোবাইল হসপিটাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

প্রয়োজনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ১২টি জেলায় ১০ বেডের আইসিইউ চালু হয়েছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ৫টি জেলায় এই সেবা চালু করা সম্ভব হবে। মশা নিধনে সাধারণ মানুষের সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, মশা অত্যন্ত ক্ষুদ্র একটি পতঙ্গ এবং বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে যত্রতত্র পানি জমে থাকার কারণে এর প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় বাসাবাড়ির ভেতরে মশক নিধনকর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়, তাই সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে এবং সবাইকে নিয়মিত মশারি ব্যবহারসহ ফুল হাতা পোশাক পরিধান করতে হবে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর