Monday 13 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বান্দরবানে পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
১৩ জুলাই ২০২৬ ১০:৫৫ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১১:০১

ঘরের ভেতর থেকে বৃষ্টির পানি বের করার চেষ্টায় ব্যাক্তি।

বান্দরবান: বান্দরবানে বন্যার পানি ধীরে ধীরে নামতে শুরু করলেও বন্যার্ত মানুষের দুর্ভোগ এখনো কাটেনি। পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বন্যার পানিতে নষ্ট হয়েছে আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিশুদ্ধ পানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবার সংকট রয়েছে। যাদের বাসা-বাড়ী থেকে পানি নেমেছে তারা আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। নিন্মাঞ্চলের পরিবারগুলো এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এদিকে সেনাবাহিনী ও বিজিবি দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে বান্দরবান-কেরানীহাট সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাটা এলাকায় ব্রিজের পাশে সড়ক ভেঙ্গে বিচ্ছিন্ন ও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

টানা ভারী বর্ষণের ফলে জেলার লামা, আলীকদম, নাইক্ষংছড়ি, রুমা, থানচি এবং রোয়াংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকায় সংযোগ সড়ক গুলো ডুবে যাওয়ায় এক উপজেলা থেকে অন্য উপজেলায় এখনো যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) বিকেল থেকে বৃষ্টি কম হওয়ায় বন্যার পানি কমতে শুরু করে। তবে নিচু এলাকার রাস্তঘাট ও বাড়ীঘর এখনো পানির নিছে নিমজ্জিত রয়েছে।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান,টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট এই দুর্যোগে এই পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে,পাহাড় ধসে ৫জন, পানিতে ভেসে ১ শিশু। ২৬টি পয়েন্টে পাহাড় ধস হয়েছে,পুরো জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২শত ৫০ জন আশ্রয় নিয়েছে আর পানিবন্দী হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ পরিবার। জেলা প্রশাসন থেকে এরই মধ্যে বন্যার্তদের মাঝে নগদ ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করা হয়েছে। পানি সম্পূর্ণ নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানে টানা সাত দিনের ভারী বর্ষণের কারণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সাত উপজেলায় নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পানি বন্দি হয়ে পড়ে প্রায় ১ লাখ মানুষ। বান্দরবান সদরের আর্মি পাড়া, শেরেবাংলা নগর, ওয়াপদা ব্রিজ এলাকা, বনানী স’মীল এলাকা, ইসলামপুর, ব্রিগেড এলাকা, সাঙ্গু নদীর তীরবর্তী, বালাঘাটা, ক্যাচিংঘাটাসহ বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়।

সারাবাংলা/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর