চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গায় বিরামহীন বৃষ্টিতে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েছে জনজীবন। শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে বৃষ্টি শুরু হয়।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাত ৩টা ৪০ মিনিট থেকে এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ জেলার ৪টি উপজেলা শহর ও পৌরসভা জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। বৃষ্টির পানি নোংরা ড্রেনের সঙ্গে মিশে রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তা চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। তবে বৃষ্টির কারনে জলাবদ্ধতা নিরসনে জরুরি কাজে উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন তৎপরতা দেখা যায়নি। সড়কগুলোরও একই হাল। সড়কের দু’পাশে বৃষ্টির পানি জমে যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ বিষয়ে রয়েছে উদাসীন।
এদিকে জেলার দামুড়হুদা উপজেলার চিৎলা-গোবিন্দহুদা গ্রামে দিনরাত অবৈধভাবে ফসলী জমি থেকে বালি তুলে হাজার হাজার ট্রাক্টর বিক্রি করার কারণে দামুড়হুদা-কার্পাসডাঙ্গা সড়কের পাশের মাটি আলগা হয়ে বৃষ্টির পানির তোড়ে ভেঙ্গে গেছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ চলাচলকারী এই সড়কে যানবাহন চলাচল হুমকির মধ্যে পড়েছে। যে কোন মুহুর্তে বড় ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়ে সড়কটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এছাড়া জয়রামপুর কাঁঠালতলা বাজার থেকে কুমারীদহ যাওয়ার রাস্তা ধসে গেছে। এই রাস্তার মসজিদের কাছে রাস্তাটি ধসে গেছে বলে গ্রামবাসী জানিয়েছে।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন জানান, তিনি ভাঙ্গনের স্হান পরিদর্শন করেছেন। সে সময় তার সঙ্গে উপজেলা এলজিইডি’র প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সড়কটির ভাঙ্গনরোধ করে কিভাবে চলাচলের উপযোগী করা যায় সে ব্যাপারে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।
বৃষ্টির পানিতে ডুবে টইটম্বুর হয়ে গেছে ফসলী মাঠ। কর্মজীবী মানুষ বৃষ্টির কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারেনি। সে কারনে রাস্তাগুলো জনমানুষ শূন্য দেখা গেছে। শহরে রিক্সা, ইজিবাইক ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল কম লক্ষ্য করা গেছে।