Wednesday 08 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৩ কোটি টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জুলাই ২০২৬ ২০:৫০

– ছবি : প্রতীকী

ঢ‌াকা: সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ গ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে সরকার ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত উভয় উৎস মিলিয়ে নিট ১ লাখ ৮ হাজার ৮৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে, যা পুরো অর্থবছরের ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার ৮৭ দশমিক ১ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ ছিল ৮০ হাজার ১১৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা তখনকার বাজেট লক্ষ্যের ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি এবং ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ২১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা ছিল। ব্যাংকবহির্ভূত উৎসের মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে নিট ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যও রাখা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

তবে বাস্তবে জুলাই-মার্চ সময়ে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৪৮৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছে। এক বছর আগে একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৩ হাজার ৬৭১ কোটি ৯০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকনির্ভর ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সরকার মূলত ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড, ওভারড্রাফট এবং অন্যান্য সরকারি সিকিউরিটিজের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ নেওয়ার পরিবর্তে সরকার নিট ৬০২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। অথচ আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকার এ উৎস থেকে নিট ২৬ হাজার ৪৪৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-মার্চ সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত বিনিয়োগকারী, বীমা কোম্পানি, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের কাছে ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস) বিক্রি করে সরকার নিট ২ হাজার ৮৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

তবে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে নিট ঋণাত্মক প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৬৭ হাজার ৮৪৭ কোটি ৩০ লাখ টাকার। বিপরীতে মেয়াদপূর্তি ও আসল পরিশোধ হয়েছে ৭০ হাজার ৫৩৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সরকারের নিট পরিশোধ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৮৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই নিট পরিশোধ ছিল আরও বেশি, ৮ হাজার ৬৯১ কোটি টাকা।

মার্চ মাসের চিত্রও একই ধারা নির্দেশ করছে। ওই মাসে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ৪০ হাজার ৬১৭ কোটি ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ৫ হাজার ৭৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। ফলে এক মাসেই ব্যাংক থেকে নিট ঋণ দাঁড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৮৩৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। আগের বছরের মার্চে এই নিট ঋণ ছিল ২৯ হাজার ৮৮৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অন্যদিকে মার্চে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ৬ হাজার ৬৯২ কোটি ৭০ লাখ টাকা সংগ্রহের বিপরীতে ১১ হাজার ৯৬৫ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করায় নিট ৫ হাজার ২৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। এক বছর আগে একই মাসে এ উৎস থেকে সরকার নিট ৯৪০ কোটি ৫০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে সরকারের ব্যাংক খাতের মোট স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৫১৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। ব্যাংকবহির্ভূত উৎসে স্থিতি ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ফলে মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের স্থিতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৩০ হাজার ৬১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। জুন ২০২৫ শেষে এই স্থিতি ছিল ১০ লাখ ২১ হাজার ৭৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ নয় মাসে মোট স্থিতি বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইসলামী ধারার তারল্য ব্যবস্থাপনার জন্য চালু থাকা বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট বন্ড (বিজিআইআইবি) তহবিলে জুলাই-মার্চ সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর নিট স্থিতি ৬ হাজার ৯৩৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা বেড়েছে। একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে ৫ হাজার ৮৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং তহবিল থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ বেড়েছে ১ হাজার ৪০ কোটি টাকা।

এ ছাড়া অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য চালু বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস)-এর স্থিতি মার্চ শেষে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে ছয়টি সুকুক বন্ড চালু রয়েছে।

প্রতিবেদনের উপসংহারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণের বড় অংশই এসেছে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস, বিশেষ করে জাতীয় সঞ্চয়পত্র থেকে নিট অর্থপ্রবাহ ঋণাত্মক থাকায় সরকারের অর্থায়নে ব্যাংকনির্ভরতা আরও বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর