Tuesday 07 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিশ্বকাপ ২০২৬ / আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য জয়

ক্রীড়া ডেস্ক
৮ জুলাই ২০২৬ ০০:১৩ | আপডেট: ৮ জুলাই ২০২৬ ০০:৪২

৬৭ মিনিটে দুই গোলে পিছিয়ে যাওয়া। মনে হচ্ছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিদায় ঘনিয়ে এসেছে। তবে এ ম্যাচের চিত্রনাট্যের শেষটা লেখা ছিল অন্যরকম। অসাধারণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে মিসরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা পা রেখেছে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

বাঁ পায়ের জাদুকর আবারও জ্বললেন। প্রথমে রোমেরোকে দিয়ে গোল করান ৭৯ মিনিটে। এরপর ৮৩ মিনিটে নিজে করলেন সমতাসূচক গোল। আর দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এনসো ফের্নান্দেস কাউন্টার অ্যাটাক থেকে করেন জয়সূচক গোল।

এর আগে ম্যাচের ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিম ধারার বিপরীতে গোল করে মিসরকে এগিয়ে নিয়েছিলেন। ছয় মিনিট পর পেনাল্টি থেকে দলকে সমতায় ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন মেসি। তার শট রুখে দেন মিসর কিপার মোস্তফা শুবির।

বিজ্ঞাপন

গোল হজমের পর আর্জেন্টিনা মরিয়া চেষ্টা চালায় ম্যাচে ফেরার। তবে শুবিরকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা। ২৮ মিনিটে ম্যাক আলিস্টারের হেড রুখে দেন এই কিপার। ৩১ মিনিটে মেসির ফ্রি-কিক ফিরে আসে সাইড পোস্টে বাধা পেয়ে। ৩৯ মিনিটে হুলিও আলভারেস সেরা সুযোগ পেয়েছিলেন  গোলের। তবে আশুর আবারও ত্রাতার ভূমিকা নিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে রুখে দেন তার প্রচেষ্টা। ফলে এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় মিসর।

বিরতি থেকে ফিরেও আর্জেন্টিনা বারবার হতাশ হয়েছে মিসরের রক্ষণে খেই হারিয়ে। ৫৮ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে তারা। মোস্তফা জিকো কাউন্টার অ্যাটাকের সুযোগে গোল করেছিলেন। তবে ভিএআর সেই গোল বাতিল করে। দেখা যায় গোলের ঘটনার আগেই লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ফাউল করেন মিসরের এক ডিফেন্ডার।

তবে ৬৭ মিনিটে ঠিকই মিসরের লিডা বাড়ান জিকো। এবার কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল নিজেদের অর্ধ থেকে নিয়ে হাইসেম হাসানকে পাস বাড়ান মিসর অধিনায়ক মোহাম্মদ সালাহ। হাইসেম দ্রুত পাস দেন জিকোকে। এবারও নিঁখুত ফিনিশে ২-০ করেন তিনি।

দুই গোলের পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমন সানাতে থাকে তারা। শেষ পর্যন্ত ৭৯ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মেসির ক্রসে ছোট ডি-বক্সের সামনে থেকে রোমেরোর হেড জালে জড়ালে ব্যবধান কমে আসে।

তখনও হারের শঙ্কা কাটেনি আলবিসেলেস্তেদের। ঠিক সেই মুহূর্তে জ্বলে ওঠেন মেসি। ৮৩ মিনিটে গোল মুখের জটলা থেকে বাঁ পায়ের প্লেসিংয়ে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান মেসি। এই আসরে অস্টম গোল করে ছাড়িয়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে ও আর্লিং হালান্ডকে। টানা নবম বিশ্বকাপ ম্যাচে গোলের কীর্তি গড়া মেসির স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বটা এরপর নেন তার দুই সতীর্থ লাউতারো মার্তিনেস ও এনসো ফের্নান্দেস। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বল পেয়ে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে বদলী নামা লাউতারো দেখে শুনে ক্রস ফেলেন ছোট ডি-বক্সের সামনে। সেখান থেকে মাপা হেডে বল জালে জড়ান এনসো। তাতেই মিসর বাধা টপকে আর্জেন্টিনা পৌঁছে যায় বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।

১২ জুলাই বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে যাওয়ার ম্যাচটি খেলবে সুইজারল্যান্ড ও কলম্বিয়ার ম্যাচের বিজয়ীদের সঙ্গে। এই দুই দল মাঠে নামবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায়।

মেসির জন্য এ জয়ের গুরুত্ব কতটা বোঝা গেছে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পর। নিশ্চিত বিদায়ের মুখ থেকে ফেরার পর আর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক। আটলান্টায় অঝোরে কাঁদলেন মেসি। কাঁদালেন দুনিয়াজুড়ে কোটি সমর্থককে।

এক অবিশ্বস্য প্রত্যাবর্তনে টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের স্বপ্নটা বেঁচে থাকলো মেসির। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটাতে না পার কষ্ট নিয়ে বিদায় নিতে হলো মোহাম্মদ সালাহ’র মিসরকে।

সারাবাংলা/এফএম