Tuesday 07 July 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রামে ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি: ডুবল শহর,পাহাড় ধসের শঙ্কা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ জুলাই ২০২৬ ২০:১৭ | আপডেট: ৭ জুলাই ২০২৬ ২১:০৬

– ছবি : সারাবাংলা

চট্টগ্রাম: ৩ দিনের টানা বৃষ্টিতে আবারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরার তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর, যা ৪২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

টানা বৃষ্টির সঙ্গে সাগরের জোয়ারের পানি যুক্ত হওয়ায় নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জ, শোলকবহর, রহমতগঞ্জ, কাপাসগোলা, ফরিদার পাড়া, জিইসি, আগ্রাবাদ, মুরাদপুর, কুসুমবাগ, হালিশহর সহ বিভিন্ন এলাকায় কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমর থেকে বুক সমান পানিতে তলিয়ে গেছে।নিচু এলাকার বহু বাসাবাড়ি এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

– ছবি : সারাবাংলা

মুরাদপুর বাসিন্দা পারভিন সুলতানা সারাবাংলাকে বলেন, প্রতি বছর বর্ষা এলেই শহর পানিতে তলিয়ে যায়। চলাচল বন্ধ হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। বছরের পর বছর কোন স্থায়ী সমাধান দেখছি না আমরা।

সকাল থেকেই সড়কে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী যাত্রী, পোশাকশ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। অনেক এলাকায় রিকশা ও গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানুষকে পায়ে হেঁটে কিংবা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নগরীর বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও পাঠদান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

– ছবি : সারাবাংলা

বৃষ্টির মধ্যেই চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা এলাকায় একটি সড়ক ভেঙে গেছে। উড়ালসড়ক নির্মাণের জন্য ওই বাইপাস সড়কটি তৈরি করা হয়েছিল। ভারী বৃষ্টিতে গতকাল রাতে সড়কটি ভেঙে যায়।

পাহাড়ি ঢলে পানি উঠেছে চট্টগ্রামের অন্তত ৪টি ‍উপজেলায়। রেলপথ ডুবে আটকা পড়ে পর্যটক এক্সপ্রেসও। চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের হাটহাজারী উপজেলার বড়দিঘীপাড় এলাকায় ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কোমরসমান পানিতে তলিয়ে গেছে মহাসড়কের একাংশ। এতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

– ছবি : সারাবাংলা

সকালে কাতালগঞ্জ এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গতকাল সোমবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি এখনো থামেনি। এর মধ্যে যেসব এলাকায় পানি জমেছে সেখানে খালের কাজ চলছে। বিশেষ করে হিজড়া খাল, জামাল খান খাল, আজব বাহার খাল ও গুলজার খাল। সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড কাজ করছে। এখনো কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সিটি করপোরেশনও এসব এলাকার নালাগুলো পরিষ্কার করেছে। বৃষ্টি থামলে পানি এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সুমন সাহা বলেন, “আজ বিকাল ৩টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর আগে চট্টগ্রামে ১৯৮৩ সালের ৪ আগস্ট ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। সে হিসাবে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।”