ঢাকা: রাজধানী ঢাকার সব স্কুল, কলেজ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান আজ শুক্রবার (৩ জুলাই) ছুটির দিনে বন্ধ রয়েছে। সড়কে অন্যান্য দিনের তুলনায় যানবাহনের সংখ্যা অনেক কম হলেও ঢাকার বায়ুর মান সংবেদনশীল মানুষের জন্য ক্ষতিকর অবস্থায় রয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের বা আইকিউএয়ারের সূচক থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বিশ্বের দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় রাজধানী ঢাকা আজ দশম অবস্থানে রয়েছে এবং এই তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা। দ্য ইকোনমিস্টের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে।
সাধারণত এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে বায়ুর স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তাকে ভালো মান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সূচক ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে মাঝারি বা সহনীয় বলা যায়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বলে ধরে নেওয়া হয়। একইভাবে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোর অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর বেশি স্কোর হলে বাতাসকে চরম দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হয়।
আজ ঢাকার বায়ুদূষণের স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১০২, যার মানে দাঁড়ায় এখানকার বাতাস সংবেদনশীল মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং বিশেষ করে যাদের ফুসফুসের রোগ বা অ্যাজমার মতো সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য এটি বেশ ক্ষতিকর। অন্যদিকে শীর্ষ অবস্থানে থাকা জাকার্তার দূষণ স্কোর আজ ১৬০ এ পৌঁছেছে, যার অর্থ ওখানকার বাতাস সাধারণ নাগরিকদের জন্যই অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাকার্তার ঠিক পরেই দূষণের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর শহর।
পরিবেশ গবেষকরা এই সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বায়ুর এই মানের বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ছুটির দিনেও বায়ুর এমন ক্ষতিকর অবস্থা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের একটি সংকেত। তিনি আরও বলেন, বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম কণার মাত্রা বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ও সংবেদনশীল মানুষের ফুসফুসের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্কদের এই পরিস্থিতিতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। তিনি আরও বলেন, বায়ুর গুণগত মান প্রতিনিয়ত পর্যবেক্ষণ করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।