Tuesday 30 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মুদ্রানীতি ঘোষণা: নীতিসুদ হার ১০ শতাংশ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৩০ জুন ২০২৬ ১৫:৪৩

মুদ্রানী‌তি ঘোষণা ক‌রছেন বাংলা‌দেশ ব্যাং‌ক গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) জন্য ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে নীতিসুদ (পলিসি রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতিকে আরও নিচে নামিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্থিতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির অবস্থান বহাল থাকবে।

মঙ্গলবার(৩০ জুন) বাংলা‌দেশ ব্যাং‌কের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান মুদ্রানী‌তি ঘোষণা ক‌রেন।

মুদ্রানীতিতে জানানো হয়, পলিসি রেট ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হলেও স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) ৭ দশমিক ৫ শতাংশে বহাল থাকবে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠলেও ২০২৬ সালের মে মাসে তা কমে ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং জনআস্থার সংকটে ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে যাওয়াকে অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে মাত্র ৫ শতাংশে। উচ্চ খেলাপি ঋণ, ব্যাংকগুলোর সতর্ক ঋণ বিতরণ নীতি এবং সরকারের ঋণ গ্রহণ বৃদ্ধির কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় শিল্প, কৃষি এবং ক্ষুদ্র, কুটির, মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক খাতের অতিরিক্ত তারল্য থেকে এবং বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব উৎস থেকে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মুদ্রানীতিতে আরও বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে। ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে এবং উৎপাদনমুখী শিল্প ও সিএমএসএমই খাতের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব খাতকে সহায়তা দিতে আমদানিকারকদের ঋণ পরিশোধে সময় বাড়ানোসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নিরীক্ষা, নতুন ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬, ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬, আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী প্রত্যাশিত ঋণ ক্ষতি (ইসিএল) কাঠামো এবং ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন চূড়ান্ত করার কাজ চলছে, যাতে করদাতার অর্থ ব্যবহার ছাড়াই খেলাপি সম্পদ ব্যবস্থাপনা সহজ হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, বাজারভিত্তিক নমনীয় বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বৃদ্ধি, বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা এবং প্রবাসী আয় বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

তবে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সংকট, আমদানি ব্যয়ের চাপ, কাঠামোগত মূল্যস্ফীতি, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাকে অর্থনীতির প্রধান ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উৎপাদন ও বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারে সতর্ক নীতিগত অবস্থান বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে।