সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলায় ছয় আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক নজরুল ইসলাম দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রাজশাহী জেলার জায়গীরপাড়া এলাকার ওসমান গনি, মো. গোফরান, মুক্তারপুর গ্রামের মো. আলেফ, গৌরশহরপুর গ্রামের মো. মানিক, বিড়ালদহ গ্রামের মো. আনিছ এবং শেখের চর এলাকার মো. রাজিব।
আদালত সূত্রে জানা যায়, রায় ঘোষণার সময় আসামিদের মধ্যে মো. রাজিব, মো. গোফরান ও মো. আলেফ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অপর তিন আসামি ওসমান গনি, মো. মানিক ও মো. আনিছ বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হামিদুল ইসলাম দুলাল জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এ সাজা প্রদান করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৫ জুলাই যমুনা সেতু পশ্চিম থানা পুলিশের একটি টহল দল মহাসড়কে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায়, রাজশাহী থেকে একটি প্রাইভেটকারে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল নিয়ে একটি চক্র ঢাকার দিকে যাচ্ছে।
পরে পুলিশের একটি দল যমুনা সেতু পশ্চিম গোলচত্বর এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। ওই দিন বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় গাড়ি থেকে ১৫০ বোতল ভারতীয় ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারে থাকা ওসমান গনি, মো. গোফরান ও মো. রাজিবকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই মাদক পরিবহনের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য দেয় বলে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এরপর পুলিশ তদন্ত শেষে ছয়জনকে আসামি করে ২০১২ সালের ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে মামলার কার্যক্রম চলার পর আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণ, প্রমাণ উপস্থাপন ও যুক্তিতর্ক শেষে সোমবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।