Sunday 28 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রসঙ্গ কালো টাকা / ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি মাহবুব উদ্দিন খোকনের

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৮ জুন ২০২৬ ১৫:১৯ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৫:৫৭

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন – সংগৃহীত ফাইল ছবি

ঢাকা: কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকার নোট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি জানান।

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, কালো টাকার উৎস বন্ধ এবং বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দুর্নীতিবাজদের জমানো অপ্রদর্শিত অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফেরাতে, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে ৫০০ ও ১০০০ টাকার নোট বাতিল করা দরকার।

একই সঙ্গে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যাংক রয়েছে- এমন মন্তব করে ব্যাংকের সংখ্যা কমানোরও দাবি জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন বলেন, অনেক মানুষ ব্যাংকে না রেখে ঘরে নগদ অর্থ সংরক্ষণ করছেন। যারা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন, তারাও বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ রেখে গেছেন। এ অবস্থায় ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট এক থেকে দুই মাসের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে সেই অর্থ ব্যাংক ব্যবস্থায় ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, যাদের টাকার বৈধ উৎস দেখানোর সুযোগ নেই, তারা নির্দিষ্ট হারে-২০ থেকে ২৫ শতাংশ-কর দিয়ে অর্থ বৈধ করতে পারবেন। এতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকে ফিরে আসবে, বিনিয়োগ বাড়বে ও অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বর আকস্মিকভাবে দেশটির প্রচলিত ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোটের আইনগত বৈধতা বাতিলের ঘোষণা দেন। সে সময় এই দুটি নোট দেশটির মোট প্রচলিত নগদ অর্থের প্রায় ৮৬ শতাংশ ছিল।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি ব্যাংক রয়েছে। এমপি হলেই একটা ব্যাংক লাগবে, নেতা হলেই একটা লিজিং কোম্পানি লাগবে—এ সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। এত ব্যাংকের প্রয়োজন নেই। জনগণের টাকা দিয়ে দুর্বল ব্যাংক টিকিয়ে রাখা হচ্ছে। তাই ব্যাংকের সংখ্যা কমিয়ে ব্যাংক খাতকে আরও কার্যকর করতে হবে।

অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কথা বারবার বলা হলেও বাস্তবে কোনো অর্থ দেশে ফেরেনি। অর্থ যেখানে নিরাপদ মনে হয়, সেখানেই চলে যায়। তাই শুধু পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা নয়, এমন একটি আর্থিক ও আইনি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যাতে মানুষ দেশে অর্থ রাখতে আস্থা পায়।

তিনি বলেন, বর্তমান বাজেট কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং যুবকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগের কথা বাজেটে রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।