Sunday 21 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কম আয়ের মানুষের করের বোঝা বেশি, উচ্চ আয়ে কম: সিপিডি

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২১ জুন ২০২৬ ১৬:০১

– ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি খাতের আয়কর কাঠামোয় বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ’ (সিপিডি)।

সংস্থাটির মতে, নতুন কর ব্যবস্থায় তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ বেশি বাড়ছে, অথচ উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে করের দায় বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে কম।

রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘বাজেট সংলাপ ২০২৬’-এ এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ফাহমিদা খাতুন জানান, যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, নতুন বাজেটে তাদের করের দায় ১২ দশমিক ৫ থেকে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে। অন্যদিকে, ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের ক্ষেত্রে করের দায় বাড়বে মাত্র ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তার মতে, এ ধরনের কর কাঠামো সামাজিক সমতা ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৮ মাসে এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই। শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য—এই চার মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ হয় কমেছে, নয়তো স্থবির রয়েছে। একই সঙ্গে পটুয়াখালী ইপিজেড ও জামদানি ভিলেজের মতো কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

সিপিডি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সুনির্দিষ্ট জাতীয় কর্মসংস্থান কর্মসূচি ছাড়া বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য কেবল রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা হিসেবেই থেকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সরকারি লক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে সিপিডি। সংস্থাটির মতে, বিদায়ী অর্থবছরের মে মাস পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ ছিল। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিচক্ষণ মুদ্রানীতি ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন সরকারের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য প্রশংসনীয় হলেও সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক অত্যধিক আশাবাদী। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও এসব বরাদ্দের কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

সিপিডি’র সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান, র‌্যপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী পারভেজ, বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি মন্টু ।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর