Thursday 18 June 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের অর্থের পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৮ জুন ২০২৬ ২১:১৩ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ২১:৩১

– ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

ঢাকা: সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকে (এসএনবি) বাংলাদেশিদের আমানত বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। বাংলাদেশী মুদ্রায় এক সুইস ফ্রাঁতে ১৫২ থেকে ১৫৩ টাকা পাওয়া যায়। প্রতি সুইস ফ্রাঁ ১৫২ টাকা ধরলে সুইস ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে সুইস ব্যাংকে ২০২৫ সালের শেষে বাংলাদেশিদের অর্থ জমার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। গত এক বছরের ব্যবধানে আমানত বেড়েছে ৩ হাজার ৭১০ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরের ব্যবধানে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুসারে, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪১ লাখ সুইস ফ্রাঁ (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা)। বাংলাদেশি টাকায় যার পরিমাণ ১২ হাজার ৬৭৮ কোটি টাকা। ২০২৪ সালে এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৫৯ কোটি সুইস ফ্রাঁ। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৩ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। ২০২১ সালের পর ২০২৫ সালে বাংলাদেশিদের সর্বোচ্চ পরিমাণ অর্থ জমা হয়েছে সুইস ব্যাংকগুলোতে। এটি গত ১০ বছরের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ জমা হয় ২০২৫ সালে।

জানা গেছে সুইচ ব্যাংকগুলোতে আমানত বৃদ্ধির মূল উৎস বাংলাদেরেশর ব্যাংকগুলো। সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের (এসএনবি) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশিদের আমানত বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা এসেছে দেশের ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে জমা রাখা অর্থ থেকে। ২০২৫ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮২২ দশমিক ৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যা ২০২৪ সালের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁর তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি।

ফলে সুইস ব্যাংকে থাকা মোট বাংলাদেশি আমানতের ৯৮ দশমিক ৬ শতাংশই এখন ব্যাংকগুলোর নামে রাখা অর্থ। ২০২৪ সালে এই হার ছিল ৯৭ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ কয়েক বছর আগেও চিত্রটি ছিল ভিন্ন। ২০২৩ সালে মোট আমানতের মাত্র ২০ শতাংশ এবং ২০২১ সালে ৩৫ শতাংশ ছিল ব্যাংকগুলোর নামে।

অন্যদিকে ব্যক্তি পর্যায়ের হিসাবগুলোতে রাখা অর্থের পরিমাণ কমেছে। ২০২৫ সালে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে থাকা আমানত ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে কমে ১১ দশমিক ৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমে এসেছে। এসএনবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই উল্লম্ফনের পেছনে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে বাংলাদেশি ব্যাংকগুলোর ৪৩ শতাংশ আমানত বৃদ্ধি; যা এক বছর আগের ৫৭৬ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালে ৮২২.৭ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে দাঁড়িয়েছে।

তবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশের ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে জমা রাখা আমানতের পরিমাণ ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে। ২০২৪ সালের ১২ দশমিক ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ থেকে প্রায় ১০ শতাংশ কমে গত বছর বাংলাদেশি ব্যক্তিগত গ্রাহক অ্যাকাউন্টের আমানত ১১.৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঁতে নেমেছে।

এ বিষয়ে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ সারাবাংলা‌কে বলেন, ‘বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অবৈধ সম্পদ ফেরানোর উদ্যোগ জোরদার করায় অনেকেই নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে সুইস ব্যাংকে অর্থ স্থানান্তর করেছেন। তাঁর দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া বিদেশে রাখা অর্থকে কালো টাকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’

তবে বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছেন, সুইস ব্যাংকে থাকা সব অর্থই অবৈধ বা পাচার করা অর্থ নয়। এর মধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বৈধ আমানত, বাণিজ্যিক লেনদেন, আন্তঃব্যাংক জমা এবং বিভিন্ন আর্থিক দায়ও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তাই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের মোট আমানতের পরিমাণকে সরাসরি পাচার হওয়া অর্থ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সারাবাংলা/জিএস/এসএ/এসআর/এসএস
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর