ঢাকা: দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন ও টেকসই অর্থায়ন জোরদারে নতুন করে ১ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং এবং গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি খাতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে এ তহবিল থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সবুজ শিল্প ও পরিবেশবান্ধব কারখানা স্থাপনে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পাঠিয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সরকারের বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কৌশল এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ৭০টি পণ্য ও প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পরিচালিত পুনঃঅর্থায়ন কার্যক্রমের আওতা আরও শক্তিশালী করতে নতুন এ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো একক গ্রাহক বা গ্রুপ এ তহবিলের আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। তবে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিতরণ করা ঋণ বা বিনিয়োগের সমপরিমাণের বেশি হবে না।
গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি ও গ্রিন ফ্যাক্টরি বিল্ডিং স্থাপনের জন্য দেওয়া মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগের বিপরীতে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। পুনঃঅর্থায়নের মেয়াদ হবে ৩ থেকে ১০ বছর। প্রয়োজনে সর্বোচ্চ এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক অংশগ্রহণকারী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ২ শতাংশ হারে সুদ বা মুনাফা নেবে। অন্যদিকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগের সুদ-মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া গ্রাহকের কাছ থেকে সুদ বা মুনাফার বাইরে কোনো ধরনের গোপন খরচ, অতিরিক্ত চার্জ বা ফি আদায় করা যাবে না। কেবল সরকার নির্ধারিত কর বা শুল্ক প্রযোজ্য হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এ স্কিমের আওতায় ঋণ দিতে পারবে। তবে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকতে হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সীমা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শিথিল করতে পারবে।
পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়ার আগে গ্রাহকের হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে এবং তিনি খেলাপি নন—এটি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো খেলাপি ঋণগ্রহীতার অনুকূলে দেওয়া ঋণের বিপরীতে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হবে না।
গ্রিন ফ্যাক্টরি বা গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে স্বীকৃতি পেতে প্রকল্পকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সনদ থাকতে হবে। আপাতত LEED, EDGE, BEEER অথবা GreenARCH-এর সার্টিফিকেশন বা প্রি-সার্টিফিকেশন অর্জনের পরই পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করা যাবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আবেদন অনুমোদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন করবে সাসটেইনেবল ফাইন্যান্স ডিপার্টমেন্ট। প্রকল্পের পরিবেশগত ও সামাজিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাসহ সব নথি যাচাই করে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, পুনঃঅর্থায়নের অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার না হলে কিংবা সংশ্লিষ্ট ঋণ পরবর্তীতে খেলাপিতে পরিণত হলে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরো অর্থ সুদসহ এককালীন আদায় করবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া পুনঃঅর্থায়নপ্রাপ্ত অর্থের ব্যবহার, অগ্রগতি ও পরিশোধ পরিস্থিতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন এ তহবিল দেশের শিল্প খাতে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হবে এবং আন্তর্জাতিক মানের সবুজ কারখানা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।