Monday 08 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রফতানি বৈচিত্রকরণে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৮ জুন ২০২৬ ১৭:০২ | আপডেট: ৮ জুন ২০২৬ ১৮:১০

ঢাকা: দেশের রফতানি খাতকে বহুমুখীকরণ বা রফতানি খাতে বৈচিত্র বাড়াতে ৩ হাজার কোটি টাকার ‘এক্সপোর্ট ডাইভার্সিফিকেশন রিফাইন্যান্স স্কিম’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

রোববার (৭ জুন) বাংলা‌দেশ ব্যাংক থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, বর্তমানে দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বাজার ও পণ্যের ঘনত্বজনিত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদে রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করতে নতুন নতুন পণ্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ লক্ষ্যেই পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি গঠন করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সার্কুলার অনুযায়ী, ‘রফতানি নীতি ২০২৪-২৭’-এ উল্লেখিত সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও বিশেষ উন্নয়নমূলক খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এ তহবিলের আওতায় ঋণ সুবিধা পাবে। বিশেষ করে যেসব শিল্প স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবহার করে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদন করে, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, পাট, চামড়াসহ কয়েকটি খাতে দেশীয় উৎস থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহ সম্ভব। এসব খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

স্কিমের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ৪ শতাংশ সুদে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বা বিনিয়োগের সুদ বা মুনাফার হার সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
সুদ হিসাব হবে ‘রিডিউসিং ব্যালেন্স’ পদ্ধতিতে। ঋণ ও উদ্যোক্তার নিজস্ব মূলধনের অনুপাত ন্যূনতম ৭০:৩০ হতে হবে।

স্কিমের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন বছর। এটি স্থানীয় মুদ্রায় মেয়াদি ঋণ বা বিনিয়োগ হিসেবে দেওয়া হবে। ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া যাবে।

সার্কুলার অনুযায়ী, খেলাপি ঋণগ্রহীতা বা যাদের বিরুদ্ধে ঋণ অবলোপনের ইতিহাস রয়েছে, তারা এ সুবিধা পাবেন না। আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ সিআইবি প্রতিবেদন সংগ্রহ করতে হবে।

এ ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের সার্কুলার বিল অনাদায়ী থাকলে বা অবলোপিত ঋণের ইতিহাস থাকলে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।
অংশগ্রহণকারী ব্যাংককে গ্রাহকের কাছে ঋণ বিতরণের ৯০ দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে। আবেদন যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা এবং সরেজমিন তদন্তের ভিত্তিতে পুনঃঅর্থায়নের পরিমাণ নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংকারদের মতে, দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা, শুল্কনীতি বা বাণিজ্যিক ঝুঁকির কারণে এ খাতে ধাক্কা লাগলে পুরো অর্থনীতি চাপে পড়ে। নতুন স্কিমের মাধ্যমে পাটপণ্য, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল এবং অন্যান্য সম্ভাবনাময় রফতানি বিনিয়োগ বাড়ার সুযোগ তৈরি হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কম সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের সুযোগ পেলে অপ্রচলিত রফতানি খাতের উদ্যোক্তারা উৎপাদন সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশে উৎসাহিত হবেন। এর ফলে রফতানি বহুমুখীকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের নতুন উৎস গড়ে উঠতে পারে।